বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

একজন ইভটিজারের আত্মকাহিনী..........


আর আমার বর্তমান অবস্থান?? কারাগার.....!

কারাগার-ই সম্ভবত ভাবনা-চিন্তা বিকাশের শ্রেষ্ঠ জায়গা। আমার ভবিষ্যত যেহেতু অন্ধকার, বর্তমান কারাগার-- তাই গত ক'দিনে অতীত নিয়েই বেশী ভাবলাম। ভেবে ভেবে কি পেলাম জানেন? বলছি শুনুন........................


বয়েজ স্কুলে পড়তাম বলেই হয়তোবা গার্লস স্কুলের প্রতি মোহটা একটু বেশীই ছিলো। তাতে কি? আমি ভালোই ছিলাম। মাথা নিচু করে স্কুলে যেতাম--সেভাবেই ফিরতাম। ভালো ছাত্র ছিলাম বলে বাবা স্কুলে থাকতেই মোবাইল কিনে দেন। বিপত্তির শুরুটা সেখানেই। আমার বেশীর ভাগ বন্ধুর মোবাইল ছিলো না। ওরা কোথা থেকে বিভিন্ন "ছোট আপু"/ "বড় আপু"-র নাম্বার নিয়ে আসতো -আর আমার মোবাইল দিয়ে ওদের ডিস্টার্ব করতো। এর মধ্যে কিছু নাম্বার ছিলো 'স্পেশাল'। অর্থাৎ মুঠোফোনের অন্য প্রান্তের মেয়েটি সহজেই বন্ধুত্ব মেনে নিয়ে চুটিয়ে প্রেম করতো। বন্ধুরা চলে যেত বটে........ কিন্তু মুঠোফোনের 'স্পেশাল' নাম্বার গুলো তো রয়েই যেত। ওদের মিসড্‌ কল, মেসেজ......কল ইত্যাদি রিসিভ করতে করতে হঠাৎ-ই আসক্ত হয়ে গেলাম।এবার আর বন্ধুদের দরকার নেই। অচেনা বিভিন্ন নাম্বারে ফোন করে নিজেই খুজে বের করতাম আরো 'স্পেশাল' নাম্বার। অনেকে ফোনে ঝাড়িও দিয়েছে। তবে রয়ে যাওয়া 'স্পেশাল' নাম্বার গুলোর সুকন্ঠের মায়া আর ছাড়তেই পারিনি !

এভাবেই ছাড়িয়ে গেলাম অধঃপতনের প্রথম স্তর....................

বলাই বাহুল্য এস,এস,সি তে বাজে রেজাল্ট এবং বেসরকারী কলেজে ভর্তি। এখানে আবার কো-এডুকেশন। দু'একটা মেয়েই শুধু বোরকা পড়ে আসতো। আর বাকীরা 'হেডলাইট' জ্বালিয়ে ঘুরে বেড়াত। ক্লাশে শুধু ছেলে মেয়েদের মিস্টি-দুস্টু ঝগড়া আর বলিউডি ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা। অবস্থা এমন যে-- 9XM কিংবা Mtv --র গান বাজনা না দেখলে ক্লাশে টেকাই দায়। বাধ্য হয়েই দেখা শুরু করলাম। ঢুকলাম প্রাইভেট কোচিং-এ। সেখানে সব সুন্দরীদের আনাগোনা। বাহারী চুলের ডিজাইন, টাইট জিন্স, টি-শার্ট পড়া আধুনিকারা এতো কাছে বসতো যে তার গায়ে মাখা সুগন্ধী কোন ব্র্যান্ডের তা নিয়ে বন্ধুরা রীতিমত তর্ক জুড়ে দিতাম! 'আধুনিকা'-দের কাছে 'আধুনিক'-রাই দাম পায়। তাই চুলে ওয়েস্টার্ন ছাট দিলাম। প্যান্ট ছেড়ে জিন্স আর হাতে-গলায় মাদুলী। চোখে রোদ চশমা--শীত গ্রীষ্মে তখন আমার নিত্য সঙ্গী।

এভাবেই ছাড়িয়ে গেলাম অধঃপতনের মধ্য স্তর....................


কোচিং সেন্টারে আসা ভিন্ন কলেজের মেয়েদের পিছনে ঘোরা শুরু হলো। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে মরিয়া হয়ে ওদের কলেজ গেটে দাড়াতাম। কাউকে কাউকে ফলো করে বাসা পর্যন্ত চলে যেতাম। সালমান খান স্টাইলে শিষ্‌ দিলে কারিনা স্টাইলের মেয়েটি যখন অদ্ভুত নয়নে তাকাতো......... ভিতরে গভীর আনন্দ পেতাম।

এভাবে আসক্তিটা 'দেখা' থেকে 'ছোয়া'-য় পরিণত হলো। রমনার ভীড়ে কিংবা বইমেলার লাইনে অথবা টি,এস,সি-তে অযাচিত ধাক্কায় ছোয়া-র বিমল সুখ নেওয়া শুরু হলো।

এভাবেই পৌছে গেলাম অধঃপতনের শেষ স্তরে....................


এরপর 'হারানো' আমি-- নম্র কিংবা উগ্র, লাজুক কিংবা আধুনিকা যে কাউকে নোংরা চোখে বলৎকার করতাম। কখনো হাত ধরে টেনে , কিংবা ওড়না টেনে ফেলে দিয়ে অনাবিল সুখে বন্ধুরা হাসাহাসি করতাম। নোংরামি ভালো-ই চলছিলো। হঠাৎ-ই ধরা পড়ে গেলাম।........

বলতে লজ্জ্বা হচ্ছে যে, আমি একজন ইভটিজার। তবুও জোর গলায় বলছি ভাই-- আমি ইভটিজার হতে চাইনি ......... আমার পরিবেশ আমাকে ইভটিজার বানিয়েছে।

সূত্র: ইন্টরনেট ।


জানলে তো… একজন ইভটিজারের আত্মকাহিনী.......... । আসুন সকলেই আমরা ইভটিজিং থেকে বিরত থাকি। নিজেও না করি এবং অন্যকেউ না করাতে সহযোগিতা করি। সর্বদা ধৈর্য ধরুন, মনে দৃঢ়তা বজায় রাখুন। একদিন দেখবেন, আপনি নয়! শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটি আপনার পিছু পিছু ঘুড়ছে। সকলেই ভাল থাকবেন, কেমন?


বাসর রাতেই বিলাই মারিতে চান?? (অবিবাহিত পুরুষদের জন্য)


অতি ছোটবেলা থেকেই দেখিতেছি--পুরুষ যত শক্তিমানই হউক না কেন, বিবাহের পর পরই কেমন যেন পুতাইয়া যায়! সেই পুতানোর ধরন এমনই যে, যেই পুরুষ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠিয়াই নিয়মিত ব্যায়াম করিয়া শরীরের বাইসেপ- ট্রাইসেপ বাড়াইতো--আজ সেই তার বউয়ের হাত-পায়ের বাইসেপ টিপিয়া আদরে ঘুম পাড়াইয়া দেয়!! বাবা মায়ের এত কষ্টের তৈরী সুউচ্চ মেরুদন্ডের পিলার, বাসর রাতের পর থেকেই কেমন নড়বড় করিতে থাকে!!


যাহাদের মেরুদন্ডের পিলার এহেন নড়বড়ে, তার একটাই কারণ। উনারা বাসর রাতেই বিলাই মারিতে ব্যর্থ হয়েছেন! আর যারা প্রথম পনের মিনিট কাম-ক্রোধ আটকাইয়া শক্ত হাতে বিলাই মারিতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে নিজেদের মেরুদন্ডের পিলারে সিমেন্ট লাগাইতে সমর্থ হয়।



সুতরাং, বাসর রাত শুনিয়াই শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গা না চু্লকাইয়া-- আসেন দেখি কিভাবে সহজেই বিলাই মারা যায়!



পদ্ধতি ১. দুরুদুর বুকে নতুন বউ যখন আপনার পায়ে ধরে সালাম করিতে আসিবে ..... তখনি পিছাইয়া যান! গম্ভীর কন্ঠে বলেন -->''আমার পা অতি পাক। উহা স্পর্শ করিতে হইলে
তোমাকে সাবান দিয়া হাত ধুইয়া আসিতে হইবে!!" নতুন বউ আর কি বলিবে?! হাত ধুইয়া আসিয়া যখন আবার আপনার পা ধরিয়া সালাম করিবে, ততক্ষণে আপনার বিলাই মারা শেষ!



পদ্ধতি ২. নতুন বুউয়ের খোমা দেখে-- 'পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে গিয়ে দেখেছিনু তোমায়'-- টাইপ ডায়লগ দিলেন- তো গেলেন! বরঞ্চ সন্দেহজনক ভাবে তাকাইয়া থাকেন। আর রহস্যময় গলায় কন --''তুমার চেহারা কেন জানি খুবই পরিচিত লাগতাছে! মনে হয় রমনায় অন্য কোন পুলার সাথে  দেখছিলাম!!" বউ যতই আত্মপক্ষ সমর্থন করুক না কেন, আপনি খালি অবিশ্বাসের হাসি হাসতে থাকেন। এহেন সন্দেহের ফলে বিলাই যে পুরাই চিকায় পরিণত হইবে- সেই ব্যাপারে নিচ্চিত থাকতে পারেন!!



পদ্ধতি ৩. বাসর ঘরে বিছানায় উঠেই অনেকে আবেগে কাইত হয়া যায়! আপনি তা না করে বরং খাটের চিপা চাপা থেকে একটা ছারপোকা খুঁজে বার করেন। এরপর হিংস্র ভাবে উহা
টিপিয়া মারিয়া বউয়ের দিকে তাকাইয়া ঠান্ডা গলায় বলেন --> "আমার নিরব শত্রুদের আমি এইভাবেই পিষে মারি!" এভাবে দেখবেন, বিলাই নিরবেই মারা পড়িবে।



পদ্ধতি ৪. বউয়ের নাক-কান দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন তো বিল্লী মারার খেলায় ডাক মারিলেন! বরঞ্চ, খুঁত বাইর করেন। আর বলদ বলদ গলায় বলিতে পারেন -- >"আহা.... তোমার নাক দেখি অতিশয় লম্বা! সমস্যা নাই, আমার হাতের একাধিক রাম থাবড় খাইলেই নাক স্ব স্থানে বসে যাইবে।" -- এহেন ডায়লগের পর বিল্লি আপনাতেই আত্মহত্যা করিবে বলিয়া আশা করা যায়!





পদ্ধতি ৫. আপনার কাম- ক্রোধ উত্তেজনা যদি অতি বেশী হয়- অর্থাৎ বিলাই মারার জন্য পনের মিনিটের ধৈর্য্যও যদি না থাকে ........ তাহলে আরেকটা পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে
পারেন। বাসর ঘরে ঢুকেই ফরাৎ করে পাঞ্জাবী ছিড়িয়া এবং কুইক পাজামা খুলিয়া বিছানায় ঝাপাইয়া পড়িয়া বউয়ের হাত ধরিয়া বলেন --"ভালোবাসা দিবি কিনা বল!?!" এহেন আকস্মিক ঘটনায় ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া বিলাই মরে যেতে পারে!



জানিনা এহেন টিপসে আপনার কাজ হইবে কি না! কারণ, আমি যে অবিবাহিত!! তবুও রিস্ক লইয়া ট্রাই লইবেন , প্রত্যাশা রইলো!!



পরিশেষে.... মেরুদন্ড সোজা করিয়া দাড়াইতে পারেন না যেসব ভাইজান; তাহাদের জন্য দু 'লাইন--


"বউ পিছ পিছ ঘুরিছে দেখ অভাগা পুরুষ জাতি
বাসর রাতেই বিলাই মারিলে কি ছিলো এমন ক্ষতি!!"

সূত্র: ইন্টরনেট ।

একজন ইভটিজারের আত্মকাহিনী


বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাংলা যুক্তাক্ষর

বাংলা যুক্তাক্ষর



নিচের যুক্তবর্ণের তালিকাটি বাংলা সঠিকভাবে লিখতে সহায়ক হতে পারে। এখানে বাংলায় ব্যবহৃত ২৮৫টি যুক্তবর্ণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন যুক্তবর্ণ সম্ভবত বাংলায় প্রচলিত নয়।

1) ক্ক = ক + ক; যেমন- আক্কেল, টেক্কা
2) ক্ট = ক + ট; যেমন- ডক্টর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
3) ক্ট্র = ক + ট + র; যেমন- অক্ট্রয়
4) ক্ত = ক + ত; যেমন- রক্ত
5) ক্ত্র = ক + ত + র; যেমন- বক্ত্র
6) ক্ব = ক + ব; যেমন- পক্ব, ক্বণ
7) ক্ম = ক + ম; যেমন- রুক্মিণী
8) ক্য = ক + য; যেমন- বাক্য
9) ক্র = ক + র; যেমন- চক্র
10) ক্ল = ক + ল; যেমন- ক্লান্তি
11) ক্ষ = ক + ষ; যেমন- পক্ষ
12) ক্ষ্ণ = ক + ষ + ণ; যেমন- তীক্ষ্ণ
13) ক্ষ্ব = ক + ষ + ব; যেমন- ইক্ষ্বাকু
14) ক্ষ্ম = ক + ষ + ম; যেমন- লক্ষ্মী
15) ক্ষ্ম্য = ক + ষ + ম + য; যেমন- সৌক্ষ্ম্য
16) ক্ষ্য = ক + ষ + য; যেমন- লক্ষ্য
17) ক্স = ক + স; যেমন- বাক্স
18) খ্য = খ + য; যেমন- সখ্য
19) খ্র = খ+ র যেমন; যেমন- খ্রিস্টান
20) গ্‌ণ = গ + ণ; যেমন - রুগ্‌ণ
21) গ্ধ = গ + ধ; যেমন- মুগ্ধ
22) গ্ধ্য = গ + ধ + য; যেমন- বৈদগ্ধ্য
23) গ্ধ্র = গ + ধ + র; যেমন- দোগ্ধ্রী
24) গ্ন = গ + ন; যেমন- ভগ্ন
25) গ্ন্য = গ + ন + য; যেমন- অগ্ন্যাস্ত্র, অগ্ন্যুৎপাত, অগ্ন্যাশয়
26) গ্ব = গ + ব; যেমন- দিগ্বিজয়ী
27) গ্ম = গ + ম; যেমন- যুগ্ম
28) গ্য = গ + য; যেমন- ভাগ্য
29) গ্র = গ + র; যেমন- গ্রাম
30) গ্র্য = গ + র + য; যেমন- ঐকাগ্র্য, সামগ্র্য, গ্র্যাজুয়েট
31) গ্ল = গ + ল; যেমন- গ্লানি
32) ঘ্ন = ঘ + ন; যেমন- কৃতঘ্ন
33) ঘ্য = ঘ + য; যেমন- অশ্লাঘ্য
34) ঘ্র = ঘ + র; যেমন- ঘ্রাণ
35) ঙ্‌ক্ত = ঙ + ক + ত; যেমন- পঙ্‌ক্তি
36) ঙ্ক = ঙ + ক; যেমন- অঙ্ক
37) ঙ্ক্য = ঙ + ক + য; যেমন- অঙ্ক্য
38) ঙ্ক্ষ = ঙ + ক + ষ; যেমন- আকাঙ্ক্ষা
39) ঙ্খ = ঙ + খ; যেমন- শঙ্খ
40) ঙ্গ = ঙ + গ; যেমন- অঙ্গ
41) ঙ্গ্য = ঙ + গ + য; যেমন- ব্যঙ্গ্যার্থ, ব্যঙ্গ্যোক্তি
42) ঙ্ঘ = ঙ + ঘ; যেমন- সঙ্ঘ
43) ঙ্ঘ্য = ঙ + ঘ + য; যেমন- দুর্লঙ্ঘ্য
44) ঙ্ঘ্র = ঙ + ঘ + র; যেমন- অঙ্ঘ্রি
45) ঙ্ম = ঙ + ম; যেমন- বাঙ্ময়
46) চ্চ = চ + চ; যেমন- বাচ্চা
47) চ্ছ = চ + ছ; যেমন- ইচ্ছা
48) চ্ছ্ব = চ + ছ + ব; যেমন- জলোচ্ছ্বাস
49) চ্ছ্র = চ + ছ + র; যেমন- উচ্ছ্রায়
50) চ্ঞ = চ + ঞ; যেমন- যাচ্ঞা
51) চ্ব = চ + ব; যেমন- চ্বী
52) চ্য = চ + য; যেমন- প্রাচ্য
53) জ্জ = জ + জ; যেমন- বিপজ্জনক
54) জ্জ্ব = জ + জ + ব; যেমন- উজ্জ্বল
55) জ্ঝ = জ + ঝ; যেমন- কুজ্ঝটিকা
56) জ্ঞ = জ + ঞ; যেমন- জ্ঞান
57) জ্ব = জ + ব; যেমন- জ্বর
58) জ্য = জ + য; যেমন- রাজ্য
59) জ্র = জ + র; যেমন- বজ্র
60) ঞ্চ = ঞ + চ; যেমন- অঞ্চল
61) ঞ্ছ = ঞ + ছ; যেমন- লাঞ্ছনা
62) ঞ্জ = ঞ + জ; যেমন- কুঞ্জ
63) ঞ্ঝ = ঞ + ঝ; যেমন- ঝঞ্ঝা
64) ট্ট = ট + ট; যেমন- চট্টগ্রাম
65) ট্ব = ট + ব; যেমন- খট্বা
66) ট্ম = ট + ম; যেমন- কুট্মল
67) ট্য = ট + য; যেমন- নাট্য
68) ট্র = ট + র; যেমন- ট্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
69) ড়্গ = ড় + গ; যেমন- খড়্‌গ
70) ড্ড = ড + ড; যেমন- আড্ডা
71) ড্ব = ড + ব; যেমন- অন্ড্বান
72) ড্য = ড + য; যেমন- জাড্য
73) ড্র = ড + র; যেমন- ড্রাইভার, ড্রাম (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
74) ঢ্য = ঢ + য; যেমন- ধনাঢ্য
75) ঢ্র = ঢ + র; যেমন- মেঢ্র (ত্বক) (মন্তব্য: অত্যন্ত বিরল)
76) ণ্ট = ণ + ট; যেমন- ঘণ্টা
77) ণ্ঠ = ণ + ঠ; যেমন- কণ্ঠ
78) ণ্ঠ্য = ণ + ঠ + য; যেমন- কণ্ঠ্য
79) ণ্ড = ণ + ড; যেমন- গণ্ডগোল
80) ণ্ড্য = ণ + ড + য; যেমন- পাণ্ড্য
81) ণ্ড্র = ণ + ড + র; যেমন- পুণ্ড্র
82) ণ্ঢ = ণ + ঢ; যেমন- ষণ্ঢ
83) ণ্ণ = ণ + ণ; যেমন- বিষণ্ণ
84) ণ্ব = ণ + ব; যেমন- স্হাণ্বীশ্বর
85) ণ্ম = ণ + ম; যেমন- চিণ্ময়
86) ণ্য = ণ + য; যেমন- পূণ্য
87) ত্ত = ত + ত; যেমন- উত্তর
88) ত্ত্ব = ত + ত + ব; যেমন- সত্ত্ব
89) ত্ত্য = ত + ত + য; যেমন- উত্ত্যক্ত
90) ত্থ = ত + থ; যেমন- অশ্বত্থ
91) ত্ন = ত + ন; যেমন- যত্ন
92) ত্ব = ত + ব; যেমন- রাজত্ব
93) ত্ম = ত + ম; যেমন- আত্মা
94) ত্ম্য = ত + ম + য; যেমন- দৌরাত্ম্য
95) ত্য = ত + য; যেমন- সত্য
96) ত্র = ত + র যেমন- ত্রিশ, ত্রাণ
97) ত্র্য = ত + র + য; যেমন- বৈচিত্র্য
98) ৎক = ত + ক; যেমন- উৎকট
99) ৎল = ত + ল; যেমন- কাৎলা
100) ৎস = ত + স; যেমন- বৎসর, উৎসব
101) থ্ব = থ + ব; যেমন- পৃথ্বী
102) থ্য = থ + য; যেমন- পথ্য
103) থ্র = থ + র; যেমন- থ্রি (three) (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
104) দ্গ = দ + গ; যেমন- উদ্গম
105) দ্ঘ = দ + ঘ; যেমন- উদ্ঘাটন
106) দ্দ = দ + দ; যেমন- উদ্দেশ্য
107) দ্দ্ব = দ + দ + ব; যেমন- তদ্দ্বারা
108) দ্ধ = দ + ধ; যেমন- রুদ্ধ
109) দ্ব = দ + ব; যেমন- বিদ্বান
110) দ্ভ = দ + ভ; যেমন- অদ্ভুত
111) দ্ভ্র = দ + ভ + র; যেমন- উদ্ভ্রান্ত
112) দ্ম = দ + ম; যেমন- ছদ্ম
113) দ্য = দ + য; যেমন- বাদ্য
114) দ্র = দ + র; যেমন- রুদ্র
115) দ্র্য = দ + র + য; যেমন- দারিদ্র্য
116) ধ্ন = ধ + ন; যেমন- অর্থগৃধ্নু
117) ধ্ব = ধ + ব; যেমন- ধ্বনি
118) ধ্ম = ধ + ম; যেমন- উদরাধ্মান
119) ধ্য = ধ + য; যেমন- আরাধ্য
120) ধ্র = ধ + র; যেমন- ধ্রুব
121) ন্ট = ন + ট; যেমন- প্যান্ট (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
122) ন্ট্র = ন + ট + র; যেমন- কন্ট্রোল (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
123) ন্ঠ = ন + ঠ; যেমন- লন্ঠন
124) ন্ড = ন + ড; যেমন- গন্ডার, পাউন্ড
125) ন্ড্র = ন + ড + র; যেমন- হান্ড্রেড
126) ন্ত = ন + ত; যেমন- জীবন্ত
127) ন্ত্ব = ন + ত + ব; যেমন- সান্ত্বনা
128) ন্ত্য = ন + ত + য; যেমন- অন্ত্য
129) ন্ত্র = ন + ত + র; যেমন- মন্ত্র
130) ন্ত্র্য = ন + ত + র + য; যেমন- স্বাতন্ত্র্য
131) ন্থ = ন + থ; যেমন- গ্রন্থ
132) ন্থ্র = ন + থ + র; যেমন- অ্যান্থ্রাক্স (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
133) ন্দ = ন + দ; যেমন- ছন্দ
134) ন্দ্ব = ন + দ + ব; যেমন- দ্বন্দ্ব
135) ন্দ্য = ন + দ + য; যেমন- অনিন্দ্য
136) ন্দ্র = ন + দ + র; যেমন- কেন্দ্র
137) ন্ধ = ন + ধ; যেমন- অন্ধ
138) ন্ধ্য = ন + ধ + য; যেমন- বিন্ধ্য
139) ন্ধ্র = ন + ধ + র; যেমন- রন্ধ্র
140) ন্ন = ন + ন; যেমন- নবান্ন
141) ন্ব = ন + ব; যেমন- ধন্বন্তরি
142) ন্ম = ন + ম; যেমন- চিন্ময়
143) ন্য = ন + য; যেমন- ধন্য
144) প্ট = প + ট; যেমন- পাটি-সাপ্টা, ক্যাপ্টেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
145) প্ত = প + ত; যেমন- সুপ্ত
146) প্ন = প + ন; যেমন- স্বপ্ন
147) প্প = প + প; যেমন- ধাপ্পা
148) প্য = প + য; যেমন- প্রাপ্য
149) প্র = প + র; যেমন- ক্ষিপ্র
150) প্র্য = প + র + য; যেমন- প্র্যাকটিস (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
151) প্ল = প + ল; যেমন-আপ্লুত
152) প্স = প + স; যেমন- লিপ্সা
153) ফ্র = ফ + র; যেমন- ফ্রক, ফ্রিজ, আফ্রিকা, রেফ্রিজারেটর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
154) ফ্ল = ফ + ল; যেমন- ফ্লেভার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
155) ব্জ = ব + জ; যেমন- ন্যুব্জ
156) ব্দ = ব + দ; যেমন- জব্দ
157) ব্ধ = ব + ধ; যেমন- লব্ধ
158) ব্ব = ব + ব; যেমন- ডাব্বা
159) ব্য = ব + য; যেমন- দাতব্য
160) ব্র = ব + র; যেমন- ব্রাহ্মণ
161) ব্ল = ব + ল; যেমন- ব্লাউজ
162) ভ্ব =ভ + ব; যেমন- ভ্বা
163) ভ্য = ভ + য; যেমন- সভ্য
164) ভ্র = ভ + র; যেমন- শুভ্র
165) ম্ন = ম + ন; যেমন- নিম্ন
166) ম্প = ম + প; যেমন- কম্প
167) ম্প্র = ম + প + র; যেমন- সম্প্রতি
168) ম্ফ = ম + ফ; যেমন- লম্ফ
169) ম্ব = ম + ব; যেমন- প্রতিবিম্ব
170) ম্ব্র = ম + ব + র; যেমন- মেম্ব্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
171) ম্ভ = ম + ভ; যেমন- দম্ভ
172) ম্ভ্র = ম + ভ + র; যেমন- সম্ভ্রম
173) ম্ম = ম + ম; যেমন- সম্মান
174) ম্য = ম + য; যেমন- গ্রাম্য
175) ম্র = ম + র; যেমন- নম্র
176) ম্ল = ম + ল; যেমন- অম্ল
177) য্য = য + য; যেমন- ন্যায্য
178) র্ক = র + ক; যেমন - তর্ক
179) র্ক্য = র + ক + য; যেমন- অতর্ক্য (তর্ক দিয়ে যার সমাধান হয় না)
180) র্খ = র + খ; যেমন- মূর্খ
181) র্গ = র + গ; যেমন- দুর্গ
182) র্গ্য = র + গ + য; যেমন - বর্গ্য (বর্গসম্বন্ধীয়)
183) র্গ্র = র + গ + র; যেমন- দুর্গ্রহ, নির্গ্রন্হ
184) র্ঘ = র + ঘ; যেমন- দীর্ঘ
185) র্ঘ্য = র + ঘ + য; যেমন- দৈর্ঘ্য
186) র্চ = র + চ; যেমন- অর্চনা
187) র্চ্য = র + চ + য; যেমন- অর্চ্য (পূজনীয়)
188) র্ছ = র + ছ; যেমন- মূর্ছনা
189) র্জ = র + জ; যেমন- অর্জন
190) র্জ্য = র + জ + য; যেমন- বর্জ্য
191) র্ঝ = র + ঝ; যেমন- নির্ঝর
192) র্ট = র + ট; যেমন- আর্ট, কোর্ট, কম্ফর্টার, শার্ট, কার্টিজ, আর্টিস্ট, পোর্টম্যানটো, সার্টিফিকেট, কনসার্ট, কার্টুন, কোয়ার্টার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
193) র্ড = র + ড; যেমন- অর্ডার, লর্ড, বর্ডার, কার্ড (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
194) র্ঢ্য = র + ঢ + য; যেমন- দার্ঢ্য (অর্থাৎ দৃঢ়তা)
195) র্ণ = র + ণ; যেমন- বর্ণ
196) র্ণ্য = র + ণ + য; যেমন- বৈবর্ণ্য (বিবর্ণতা)
197) র্ত = র + ত; যেমন- ক্ষুধার্ত
198) র্ত্য = র + ত + য; যেমন- মর্ত্য
199) র্ত্র = র + ত + র; যেমন- কর্ত্রী
200) র্থ = র + থ; যেমন- অর্থ
201) র্থ্য = র + থ + য; যেমন- সামর্থ্য
202) র্দ = র + দ; যেমন- নির্দয়
203) র্দ্ব = র + দ + ব; যেমন- নির্দ্বিধা
204) র্দ্র = র + দ + র; যেমন- আর্দ্র
205) র্ধ = র + ধ; যেমন- গোলার্ধ
206) র্ধ্ব = র + ধ + ব; যেমন- ঊর্ধ্ব
207) র্ন = র + ন; যেমন- দুর্নাম
208) র্প = র + প; যেমন- দর্প
209) র্ফ = র + ফ; যেমন- স্কার্ফ (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
210) র্ব্য = র + ব + য; যেমন- নৈর্ব্যক্তিক
211) র্ভ = র + ভ; যেমন- গর্ভ
212) র্ম = র + ম; যেমন- ধর্ম
213) র্ম্য = র + ম + য; যেমন- নৈষ্কর্ম্য
214) র্য = র + য; যেমন- আর্য
215) র্ল = র + ল; যেমন- দুর্লভ
216) র্শ = র + শ; যেমন- স্পর্শ
217) র্শ্ব = র+ শ + ব; যেমন- পার্শ্ব
218) র্শ্য = র + শ + য; যেমন- অস্পর্শ্য
219) র্ষ = র + ষ; যেমন- ঘর্ষণ
220) র্ষ্য = র + ষ + য; যেমন- ঔৎকর্ষ্য
221) র্স = র + স; যেমন- জার্সি, নার্স, পার্সেল, কুর্সি (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
222) র্হ = র + হ; যেমন- গার্হস্থ্য
223) র্হ্য = র + হ + য; যেমন- গর্হ্য
224) ল্‌ফ = ল + ফ; যেমন- গল্‌ফ (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
225) ল্‌ভ = ল + ভ; যেমন- প্রগল্‌ভ
226) ল্ক = ল + ক; যেমন- শুল্ক
227) ল্ক্য = ল + ক + য; যেমন- যাজ্ঞবল্ক্য
228) ল্গ = ল + গ; যেমন- বল্গা
229) ল্ট = ল + ট; যেমন- উল্টো
230) ল্ড = ল + ড; যেমন- ফিল্ডিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
231) ল্প = ল + প; যেমন- বিকল্প
232) ল্ব = ল + ব; যেমন- বিল্ব, বাল্ব
233) ল্ম = ল + ম; যেমন- গুল্ম
234) ল্য = ল + য; যেমন- তারল্য
235) ল্ল = ল + ল; যেমন- উল্লাস
236) শ্চ = শ + চ; যেমন- পুনশ্চ
237) শ্ছ = শ + ছ; যেমন- শিরশ্ছেদ
238) শ্ন = শ + ন; যেমন- প্রশ্ন
239) শ্ব = শ + ব; যেমন- বিশ্ব
240) শ্ম = শ + ম; যেমন- জীবাশ্ম
241) শ্য = শ + য; যেমন- অবশ্য
242) শ্র = শ + র; যেমন- মিশ্র
243) শ্ল = শ + ল; যেমন- অশ্লীল
244) ষ্ক = ষ + ক; যেমন- শুষ্ক
245) ষ্ক্র = ষ + ক + র; যেমন- নিষ্ক্রিয়
246) ষ্ট = ষ + ট; যেমন- কষ্ট
247) ষ্ট্য = ষ + ট + য; যেমন- বৈশিষ্ট্য
248) ষ্ট্র = ষ + ট + র; যেমন- রাষ্ট্র
249) ষ্ঠ = ষ + ঠ; যেমন- শ্রেষ্ঠ
250) ষ্ঠ্য = ষ + ঠ + য; যেমন- নিষ্ঠ্যূত
251) ষ্ণ = ষ + ণ; যেমন- কৃষ্ণ
252) ষ্প = ষ + প; যেমন- নিষ্পাপ
253) ষ্প্র = ষ + প + র; যেমন- নিষ্প্রয়োজন
254) ষ্ফ = ষ + ফ; যেমন- নিষ্ফল
255) ষ্ব = ষ + ব; যেমন- মাতৃষ্বসা
256) ষ্ম = ষ + ম; যেমন- উষ্ম
257) ষ্য = ষ + য; যেমন- শিষ্য
258) স্ক = স + ক; যেমন- মনোস্কামনা
259) স্ক্র = স + ক্র; যেমন- ইস্ক্রু (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
260) স্খ = স + খ; যেমন- স্খলন
261) স্ট = স + ট; যেমন- স্টেশন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
262) স্ট্র = স + ট্র; যেমন- স্ট্রাইক (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
263) স্ত = স + ত; যেমন- ব্যস্ত
264) স্ত্ব = স + ত + ব; যেমন- বহিস্ত্বক
265) স্ত্য = স + ত + য; যেমন-অস্ত্যর্থ
266) স্ত্র = স + ত + র; যেমন- স্ত্রী
267) স্থ = স + থ; যেমন- দুঃস্থ
268) স্থ্য = স + থ + য; যেমন- স্বাস্থ্য
269) স্ন = স + ন; যেমন- স্নান
270) স্প = স + প; যেমন- আস্পর্ধা
271) স্প্‌ল = স + প + ল; যেমন- স্প্‌লিন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
272) স্প্র = স + প +র; যেমন- স্প্রিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
273) স্ফ = স + ফ; যেমন- আস্ফালন
274) স্ব = স + ব; যেমন- স্বর
275) স্ম = স + ম; যেমন- স্মরণ
276) স্য = স + য; যেমন- শস্য
277) স্র = স + র; যেমন- অজস্র
278) স্ল = স + ল; যেমন- স্লোগান
279) হৃ = হ + ৃ; যেমন- হৃৎপিন্ড
280) হ্ণ = হ + ণ; যেমন- অপরাহ্ণ
281) হ্ন = হ + ন; যেমন- চিহ্ন
282) হ্ব = হ + ব; যেমন- আহ্বান
283) হ্ম = হ + ম; যেমন- ব্রাহ্মণ
284) হ্য = হ + য; যেমন- বাহ্য
285) হ্র = হ + র; যেমন- হ্রদ
286) হ্ল = হ + ল; যেমন- আহ্লাদ

যুক্তবর্ণ বলতে একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। বাংলা লিখনপদ্ধতিতে যুক্তবর্ণের একটি বিশেষ স্থান আছে। এগুলি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপাদান বর্ণগুলির চেয়ে দেখতে ভিন্ন, ফলে নতুন শিক্ষার্থীর এগুলি লেখা আয়ত্ত করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

যুক্তবর্ণগুলি বাংলা লিখন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য। উচ্চারিত ধ্বনির সাথে এগুলির উপাদান ব্যঞ্জনবর্ণের নির্দেশিত ধ্বনির সবসময় সরাসরি সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে। যেমন - পক্ব -এর উচ্চারণ পক্‌কো; বানানে ব-ফলা থাকলেও উচ্চারণে ব ধ্বনিটি অনুপস্থিত। রুক্ষ-এর উচ্চারণ রুক্‌খো; বানানের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষ যুক্তবর্ণটি ক ও ষ-এর যুক্তরূপ হলেও উচ্চারণ হয় ক্‌খ। বানান ও ধ্বনির এই অনিয়মও শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তবর্ণের সঠিক ব্যবহারে একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখুন


হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখুন


আপনার কম্পিউটারে ব্যক্তিগত অনেক তথ্য থাকতেই পারে, যেসব আপনি অন্যদের দেখাতে চান না।সে ক্ষেত্রে চাইলে হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখতে পারেন।উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারে এটি খুব সহজেই করা যায়। এ জন্য প্রথমে স্টার্ট মেনু থেকে Run-এ যেতে হবে। এর পর সেখানে cmd লিখে এন্টার করুন।কমান্ড প্রম্পট চালু হবে। কমান্ড প্রম্পট চালু হলে ইউজার নেমের পাশে সবশেষে diskpart লিখে এন্টার করুন।
উইন্ডোজ সেভেনের ক্ষেত্রে একটি নোটিফিকেশন আসবে। সেটাতে ইয়েস করে দিলেই নতুন একটি কমান্ড প্রম্পট (নতুন উইন্ডো) চালু হবে। সেখানে DISKPART> এর পরে লিখুন list volume এবং এন্টার করুন।সব কটি ড্রাইভের একটি তালিকা আসবে। এখন যে ড্রাইভটি আপনি লুকাতে চান (হাইড) চান, সেটির ভলিউম নম্বর লিখুন। লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, প্রতিটি ড্রাইভের পাশেই এর ভলিউম নম্বর লেখা আছে। যেমন—আপনি যদি D:\ ড্রাইভ হাইড করতে চান, তাহলে D:\ ড্রাইভের ভলিউম নম্বর লিখে এন্টার করুন।D:\ ড্রাইভের ভলিউম নম্বর ৪ হলে লিখুন DISKPART>-এর পরে লিখুন select volume 4, তাহলে আপনার D:\ ভলিউমটি নির্বাচন করা হবে। তারপর লুকানোর জন্য DISKPART>-এর পরে লিখুন remove letter D, তাহলে আপনার নির্বাচন করা ড্রাইভটি লুকিয়ে পড়বে।যদি ড্রাইভটি আবার দেখতে চান, তাহলে লুকানো ড্রাইভটি একই পদ্ধতিতে নির্বাচন করে লিখুন assign letter D এবং Command Prompt বন্ধ করে দিন। এবারে মাই কম্পিউটারে গেলে ড্রাইভটি আবার দেখতে পাবেন। —ফয়সাল হাসান


সূত্র: দৈনিক প্রথম-আলো, কম্পিউটার প্রতিদিন (হেল্পলাইন) ।

তারিখ: ১৬-০১-২০১২

মুদ্রাস্ফীতি বনাম মূল্যস্ফীতি


মুদ্রাস্ফীতি বনাম মূল্যস্ফীতি


দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিষয়ে সাধারণ শিক্ষিত মানুষ, অর্থনীতিবিদ, ভোক্তাসাধারণ—সবার আলোচনায় যে কথাগুলো ঘুরেফিরে আসে, তা হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি। এই দুটি ধারণার সাধারণীকৃত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে সামান্য বিভ্রান্তি। আমরা যখন মুদ্রাস্ফীতি কথাটা ব্যবহার করি, তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ধারণাকে এক করে ফেলি। অবশ্য এই বিভ্রান্তির কারণও আছে। মুদ্রাস্ফীতি বলতে অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধিকেই বোঝানো হয়। অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে এবং পণ্য ও সেবার সরবরাহ অপরিবর্তিত থাকলে মূল্যস্ফীতি ঘটে। কারণ অনেক বেশি টাকা সীমিত পণ্য ও সেবার পেছনে ধাওয়া করে। এতে চাহিদা ও মূল্যস্তর—দুটিই বেড়ে যায়। শাস্ত্রীয় ও আভিধানিক অর্থেও মুদ্রাস্ফীতির অর্থ সব ধরনের পণ্য ও সেবামূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি, যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে, যাতে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। বলা হয়, ‘মুদ্রাস্ফীতিতে সবকিছু মহার্ঘ হয়ে যায় কেবলমাত্র অর্থের মূল্য ছাড়া।’ সাধারণ অর্থে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এটিই সহজবোধ্য সম্পর্ক এবং মুদ্রাস্ফীতির স্বাভাবিক ধর্মটিও এ রকম। কিন্তু একে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না।
প্রকৃতপক্ষে মূল্যস্তর কমলেও মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে; আবার মুদ্রাস্ফীতি না থাকলেও মূল্যস্তর বাড়তে পারে। এককথায়, মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে এর একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর প্রবণতা কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করে একাধিক নিয়ামকের ওপর। যেমন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উৎ কর্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা মোবাইল ফোন সেটের দাম কমে আসছে এবং সেটা ঘটতে পারে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজমান অর্থনীতিতেও। আবার একটা মন্দাক্রান্ত অর্থনীতিতে কোনো বিশেষ পণ্য বা সেবার মূল্য বাড়তে পারে, যদি এর চাহিদা কারণবশত হঠাৎ বেড়ে যায়। যেমন আমাদের দেশে মুদ্রাস্ফীতির বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ মন্দাভাবও যদি বিরাজ করে, তবু ভূসম্পত্তি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যস্ফীতি থেমে থাকবে না। কারণ, এর রয়েছে বিশাল চাহিদা, সীমিত সরবরাহ এবং অর্থায়ন প্রাপ্তির সুবিধা।
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি বিষয় গুলিয়ে ফেলা হয়। সেটা হচ্ছে ভোক্তা মূল্যসূচক। এটি মূলত মূল্যহার পরিবর্তনের হিসাব, যা দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয়। এই হিসাবের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা হয়। তারপর সেই ভিত্তি বছরকে বিবেচনায় রেখে একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্যস্তর পর্যবেক্ষণ করে রেকর্ড রাখা হয়। ধরা যাক, মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের জন্য কেবল একটি পণ্যের মূল্যের ওপর ভোক্তা মূল্যসূচক নির্ধারণ করা হয়। এবং ভিত্তি বছর ২০০০ সালে সেই পণ্যটির দাম ছিল এক টাকা এবং এর মূল্যসূচক ১০০। পরের বছর (২০০১) সেই পণ্যটির দাম যদি বেড়ে দাঁড়ায় এক টাকা ২০ পয়সায়, তাহলে মূল্যসূচক হবে ১২০। এখন আমরা ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যদি মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করতে চাই এবং ২০১১ সালে সেই পণ্যটির মূল্যসূচক যদি হয় ১৫০, তাহলে এই ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার হবে (১৫০-১২০)—১২০ = ০.২৫, অর্থাৎ শতকরা হিসাবে ২৫ শতাংশ। এ রকম কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বা একক পণ্যের তুলনামূলক মূল্যবৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যায় না, যদিও একে সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে এক করে দেখা হয়। কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে সেই পণ্যের বাড়তি চাহিদা কিংবা সরবরাহ ঘাটতির কারণে। অথচ সাধারণ মূল্যস্ফীতি তথা মুদ্রাস্ফীতি চাহিদা সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এটি নির্ভর করে অর্থনীতির ভাষায় ‘সামগ্রিক চাহিদা’র ওপর। সামগ্রিক চাহিদা বলতে বোঝায়, একটি অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার ওপর সব ভোক্তার মোট ব্যয়, মোট বিনিয়োগ ব্যয়, মোট সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানি আয় (আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে)—সবকিছুর সমষ্টি। আর এই সামগ্রিক চাহিদা প্রভাবিত হয় মুদ্রা সরবরাহ দ্বারা। অতএব, মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে একটি মুদ্রানৈতিক বিষয় এবং এর পেছনে কোনো একক পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সেই পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির পরও মূল্যস্ফীতি না ঘটে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে কিংবা উভয়ই ঘটতে পারে। যেমন, কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ব্যাপক হারে বেড়েছে মুরগি ও ডিমের উৎ পাদন। কিন্তু এতে কি মূল্য কমেছে? নাকি বেড়েছে? সুতরাং, কোনো একক পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সঠিক সংজ্ঞার মুদ্রাস্ফীতিই কেবল সঠিক মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সেটি যদি হয় চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতি। তাহলে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছে। সেটি হচ্ছে দেশের মুদ্রানীতি, যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রানীতি হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি ও প্রবৃদ্ধিকে ঠিক পথে চালানোর জন্য মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা মূলত করা হয় অর্থ সরবরাহ এবং সুদের হারের মাধ্যমে।
অন্যভাবে বলতে গেলে, মুদ্রানীতি দিয়ে অর্থনীতির মোট চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে চাহিদাজাত মুদ্রাস্ফীতিকে বাগে আনার চেষ্টা করা যায়। চাহিদা ব্যবস্থাপনার এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যস্তর ও বিনিয়োগ স্থিতিশীল রাখা। মুদ্রানীতির এই কৌশল প্রয়োগ করা হয় সুদের হার এবং অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদাকে বশে রাখার জন্য। অর্থ সরবরাহ এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ করলে মুদ্রাবাজারে স্বল্প মেয়াদে সুদ বেড়ে যায় এবং ব্যাংকের বাড়তি তহবিল সংগ্রহের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে আমানত এবং ঋণের ওপর সুদ বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগ কমে যায়। আর এ কারণে অর্থনীতিতে হ্রাস পায় সামগ্রিক চাহিদা। হ্রাসকৃত বিনিয়োগের জন্য মানুষের ভোগও কমে যায়, যা আবার প্রভাব ফেলে সামগ্রিক চাহিদার ওপর। এতে দেখা যায়, ঋণ সংকোচন করে বিনিয়োগ, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমানো যায়, যে প্রক্রিয়ায় একসময় বশে আসে মুদ্রাস্ফীতি।
তবে আজকাল মুদ্রানীতির এই উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা নতুনভাবে আলোকপাত করছেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ওয়াই ভি রেড্ডি লেখেন, ‘মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য এখন আর মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখায় সীমাবদ্ধ নেই...। এর উদ্দেশ্য এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পর্যন্ত বিস্তৃত।’
আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট ডেনিস লকহার্ট বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি সবকিছুর মূল্য বাড়ায়। এটা কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা কোনো বিশেষ শ্রেণীর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়।’
তাঁর মতে, নির্দিষ্ট বাজারে পণ্যমূল্যকে নিয়মানুগভাবে প্রভাবিত করতে অক্ষম মুদ্রানীতি একটা ভোঁতা অস্ত্র। তাঁর মতে, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওঠানামা এবং কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে অক্ষম। আমরা তেল উৎ পাদন করি না। খাদ্যও ফলাই না। কিংবা দিই না স্বাস্থ্যসেবা। যেসব ঘটনা কোনো কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আপনাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ঘটায়। যেমন, তেলের অনাগত ধাক্কা কিংবা খরা অথবা ধর্মঘট—এসব আমরা ঠেকাতে পারি না।’
‘
অতএব বাজারধর্মে ঘটা পণ্যের তুলনামূলক মূল্য সংশোধন ঠেকানো মুদ্রানীতির কাজ নয়। এর কাজ হচ্ছে অর্থনীতিতে সব মূল্য পরিবর্তনের সামগ্রিক লক্ষ্য ও গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।’ সে কারণেই আমরা দেখতে পাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন সুদের হার কিংবা ব্যাংকগুলোর নগদ জমা ও তারল্য হার বাড়ায়, সেটা বাজারের কোনো পণ্যের দাম কমাতে পারে না। তাহলে প্রশ্ন করা যায়, মুদ্রানীতি যদি জীবনযাত্রার ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এই নীতির দরকার কী? লকহার্ট এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, দরকারটি হচ্ছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থিরতা আনা, যা সম্ভব আর্থবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার মাধ্যমে।
আমাদের দেশেও যখন ষাণ্মাষিক মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়, তখন বিভিন্ন মহল থেকে আশা করা হয়, এটি দিয়ে অর্থনীতির সব সমস্যা, যেমন শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময়মূল্য—সবকিছুর সমাধান করে ফেলা যাবে। মুদ্রানীতির কর্মক্ষেত্র যেহেতু চাহিদা ব্যবস্থাপনা, এটি অর্থনীতির সরবরাহ ক্ষমতার ওপর কার্যকর নয়। এটি দিয়ে সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করে এর হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটানো যায়, আর এটি করা হয় সুদের হারের তারতম্য ঘটিয়ে।
এই সত্য থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা হচ্ছে, কেবল চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতিকে মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু যে মূল্যস্ফীতি ব্যয়বৃদ্ধিজনিত, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মুদ্রানীতি অক্ষম। যেমন আমাদের অর্থনীতিতে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি—যা-ই বলা হোক না কেন, ঘটে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে, কখনোই চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়, যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে চাহিদা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। সুতরাং মুদ্রানীতি দিয়ে চাহিদা ব্যবস্থাপনা করে খাদ্য কিংবা কোনো একক পণ্যমূল্য কমানো সম্ভব নয়। এর আরও একটি কারণ হচ্ছে, খাদ্যের অস্থিতিস্থাপক চাহিদা। অর্থাৎ খাদ্যের দাম যা-ই হোক না কেন, মানুষকে তার মৌলিক চাহিদার প্রধানতমটি, অর্থাৎ খাদ্যচাহিদা মেটাতে হবে। কিন্তু খাদ্য ছাড়া অন্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি কম থাকলেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে খাদ্যমূল্যের ওপর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যমূল্যের প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ খাদ্যমূল্য এবং তা ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের দেশে কিংবা ভারতে বিগত বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাগে রাখার জন্য ক্রমাগত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
তাহলে শেষ পর্যন্ত যে কথাটি বোঝা যাচ্ছে, দেশের মুদ্রানীতি যা-ই হোক না কেন, খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার ওপর, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নয়। অতএব, মূল্যসূচক নির্ধারণের জন্য খাদ্যপণ্য প্রধানতম সামগ্রী হলেও এর মূল্য দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করলে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।




সূত্র: দৈনিক প্রথম-আলো, খোলা কলম ।

তারিখ: ১৫-০৯-২০১১