বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাংলা যুক্তাক্ষর

বাংলা যুক্তাক্ষর



নিচের যুক্তবর্ণের তালিকাটি বাংলা সঠিকভাবে লিখতে সহায়ক হতে পারে। এখানে বাংলায় ব্যবহৃত ২৮৫টি যুক্তবর্ণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন যুক্তবর্ণ সম্ভবত বাংলায় প্রচলিত নয়।

1) ক্ক = ক + ক; যেমন- আক্কেল, টেক্কা
2) ক্ট = ক + ট; যেমন- ডক্টর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
3) ক্ট্র = ক + ট + র; যেমন- অক্ট্রয়
4) ক্ত = ক + ত; যেমন- রক্ত
5) ক্ত্র = ক + ত + র; যেমন- বক্ত্র
6) ক্ব = ক + ব; যেমন- পক্ব, ক্বণ
7) ক্ম = ক + ম; যেমন- রুক্মিণী
8) ক্য = ক + য; যেমন- বাক্য
9) ক্র = ক + র; যেমন- চক্র
10) ক্ল = ক + ল; যেমন- ক্লান্তি
11) ক্ষ = ক + ষ; যেমন- পক্ষ
12) ক্ষ্ণ = ক + ষ + ণ; যেমন- তীক্ষ্ণ
13) ক্ষ্ব = ক + ষ + ব; যেমন- ইক্ষ্বাকু
14) ক্ষ্ম = ক + ষ + ম; যেমন- লক্ষ্মী
15) ক্ষ্ম্য = ক + ষ + ম + য; যেমন- সৌক্ষ্ম্য
16) ক্ষ্য = ক + ষ + য; যেমন- লক্ষ্য
17) ক্স = ক + স; যেমন- বাক্স
18) খ্য = খ + য; যেমন- সখ্য
19) খ্র = খ+ র যেমন; যেমন- খ্রিস্টান
20) গ্‌ণ = গ + ণ; যেমন - রুগ্‌ণ
21) গ্ধ = গ + ধ; যেমন- মুগ্ধ
22) গ্ধ্য = গ + ধ + য; যেমন- বৈদগ্ধ্য
23) গ্ধ্র = গ + ধ + র; যেমন- দোগ্ধ্রী
24) গ্ন = গ + ন; যেমন- ভগ্ন
25) গ্ন্য = গ + ন + য; যেমন- অগ্ন্যাস্ত্র, অগ্ন্যুৎপাত, অগ্ন্যাশয়
26) গ্ব = গ + ব; যেমন- দিগ্বিজয়ী
27) গ্ম = গ + ম; যেমন- যুগ্ম
28) গ্য = গ + য; যেমন- ভাগ্য
29) গ্র = গ + র; যেমন- গ্রাম
30) গ্র্য = গ + র + য; যেমন- ঐকাগ্র্য, সামগ্র্য, গ্র্যাজুয়েট
31) গ্ল = গ + ল; যেমন- গ্লানি
32) ঘ্ন = ঘ + ন; যেমন- কৃতঘ্ন
33) ঘ্য = ঘ + য; যেমন- অশ্লাঘ্য
34) ঘ্র = ঘ + র; যেমন- ঘ্রাণ
35) ঙ্‌ক্ত = ঙ + ক + ত; যেমন- পঙ্‌ক্তি
36) ঙ্ক = ঙ + ক; যেমন- অঙ্ক
37) ঙ্ক্য = ঙ + ক + য; যেমন- অঙ্ক্য
38) ঙ্ক্ষ = ঙ + ক + ষ; যেমন- আকাঙ্ক্ষা
39) ঙ্খ = ঙ + খ; যেমন- শঙ্খ
40) ঙ্গ = ঙ + গ; যেমন- অঙ্গ
41) ঙ্গ্য = ঙ + গ + য; যেমন- ব্যঙ্গ্যার্থ, ব্যঙ্গ্যোক্তি
42) ঙ্ঘ = ঙ + ঘ; যেমন- সঙ্ঘ
43) ঙ্ঘ্য = ঙ + ঘ + য; যেমন- দুর্লঙ্ঘ্য
44) ঙ্ঘ্র = ঙ + ঘ + র; যেমন- অঙ্ঘ্রি
45) ঙ্ম = ঙ + ম; যেমন- বাঙ্ময়
46) চ্চ = চ + চ; যেমন- বাচ্চা
47) চ্ছ = চ + ছ; যেমন- ইচ্ছা
48) চ্ছ্ব = চ + ছ + ব; যেমন- জলোচ্ছ্বাস
49) চ্ছ্র = চ + ছ + র; যেমন- উচ্ছ্রায়
50) চ্ঞ = চ + ঞ; যেমন- যাচ্ঞা
51) চ্ব = চ + ব; যেমন- চ্বী
52) চ্য = চ + য; যেমন- প্রাচ্য
53) জ্জ = জ + জ; যেমন- বিপজ্জনক
54) জ্জ্ব = জ + জ + ব; যেমন- উজ্জ্বল
55) জ্ঝ = জ + ঝ; যেমন- কুজ্ঝটিকা
56) জ্ঞ = জ + ঞ; যেমন- জ্ঞান
57) জ্ব = জ + ব; যেমন- জ্বর
58) জ্য = জ + য; যেমন- রাজ্য
59) জ্র = জ + র; যেমন- বজ্র
60) ঞ্চ = ঞ + চ; যেমন- অঞ্চল
61) ঞ্ছ = ঞ + ছ; যেমন- লাঞ্ছনা
62) ঞ্জ = ঞ + জ; যেমন- কুঞ্জ
63) ঞ্ঝ = ঞ + ঝ; যেমন- ঝঞ্ঝা
64) ট্ট = ট + ট; যেমন- চট্টগ্রাম
65) ট্ব = ট + ব; যেমন- খট্বা
66) ট্ম = ট + ম; যেমন- কুট্মল
67) ট্য = ট + য; যেমন- নাট্য
68) ট্র = ট + র; যেমন- ট্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
69) ড়্গ = ড় + গ; যেমন- খড়্‌গ
70) ড্ড = ড + ড; যেমন- আড্ডা
71) ড্ব = ড + ব; যেমন- অন্ড্বান
72) ড্য = ড + য; যেমন- জাড্য
73) ড্র = ড + র; যেমন- ড্রাইভার, ড্রাম (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
74) ঢ্য = ঢ + য; যেমন- ধনাঢ্য
75) ঢ্র = ঢ + র; যেমন- মেঢ্র (ত্বক) (মন্তব্য: অত্যন্ত বিরল)
76) ণ্ট = ণ + ট; যেমন- ঘণ্টা
77) ণ্ঠ = ণ + ঠ; যেমন- কণ্ঠ
78) ণ্ঠ্য = ণ + ঠ + য; যেমন- কণ্ঠ্য
79) ণ্ড = ণ + ড; যেমন- গণ্ডগোল
80) ণ্ড্য = ণ + ড + য; যেমন- পাণ্ড্য
81) ণ্ড্র = ণ + ড + র; যেমন- পুণ্ড্র
82) ণ্ঢ = ণ + ঢ; যেমন- ষণ্ঢ
83) ণ্ণ = ণ + ণ; যেমন- বিষণ্ণ
84) ণ্ব = ণ + ব; যেমন- স্হাণ্বীশ্বর
85) ণ্ম = ণ + ম; যেমন- চিণ্ময়
86) ণ্য = ণ + য; যেমন- পূণ্য
87) ত্ত = ত + ত; যেমন- উত্তর
88) ত্ত্ব = ত + ত + ব; যেমন- সত্ত্ব
89) ত্ত্য = ত + ত + য; যেমন- উত্ত্যক্ত
90) ত্থ = ত + থ; যেমন- অশ্বত্থ
91) ত্ন = ত + ন; যেমন- যত্ন
92) ত্ব = ত + ব; যেমন- রাজত্ব
93) ত্ম = ত + ম; যেমন- আত্মা
94) ত্ম্য = ত + ম + য; যেমন- দৌরাত্ম্য
95) ত্য = ত + য; যেমন- সত্য
96) ত্র = ত + র যেমন- ত্রিশ, ত্রাণ
97) ত্র্য = ত + র + য; যেমন- বৈচিত্র্য
98) ৎক = ত + ক; যেমন- উৎকট
99) ৎল = ত + ল; যেমন- কাৎলা
100) ৎস = ত + স; যেমন- বৎসর, উৎসব
101) থ্ব = থ + ব; যেমন- পৃথ্বী
102) থ্য = থ + য; যেমন- পথ্য
103) থ্র = থ + র; যেমন- থ্রি (three) (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
104) দ্গ = দ + গ; যেমন- উদ্গম
105) দ্ঘ = দ + ঘ; যেমন- উদ্ঘাটন
106) দ্দ = দ + দ; যেমন- উদ্দেশ্য
107) দ্দ্ব = দ + দ + ব; যেমন- তদ্দ্বারা
108) দ্ধ = দ + ধ; যেমন- রুদ্ধ
109) দ্ব = দ + ব; যেমন- বিদ্বান
110) দ্ভ = দ + ভ; যেমন- অদ্ভুত
111) দ্ভ্র = দ + ভ + র; যেমন- উদ্ভ্রান্ত
112) দ্ম = দ + ম; যেমন- ছদ্ম
113) দ্য = দ + য; যেমন- বাদ্য
114) দ্র = দ + র; যেমন- রুদ্র
115) দ্র্য = দ + র + য; যেমন- দারিদ্র্য
116) ধ্ন = ধ + ন; যেমন- অর্থগৃধ্নু
117) ধ্ব = ধ + ব; যেমন- ধ্বনি
118) ধ্ম = ধ + ম; যেমন- উদরাধ্মান
119) ধ্য = ধ + য; যেমন- আরাধ্য
120) ধ্র = ধ + র; যেমন- ধ্রুব
121) ন্ট = ন + ট; যেমন- প্যান্ট (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
122) ন্ট্র = ন + ট + র; যেমন- কন্ট্রোল (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
123) ন্ঠ = ন + ঠ; যেমন- লন্ঠন
124) ন্ড = ন + ড; যেমন- গন্ডার, পাউন্ড
125) ন্ড্র = ন + ড + র; যেমন- হান্ড্রেড
126) ন্ত = ন + ত; যেমন- জীবন্ত
127) ন্ত্ব = ন + ত + ব; যেমন- সান্ত্বনা
128) ন্ত্য = ন + ত + য; যেমন- অন্ত্য
129) ন্ত্র = ন + ত + র; যেমন- মন্ত্র
130) ন্ত্র্য = ন + ত + র + য; যেমন- স্বাতন্ত্র্য
131) ন্থ = ন + থ; যেমন- গ্রন্থ
132) ন্থ্র = ন + থ + র; যেমন- অ্যান্থ্রাক্স (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
133) ন্দ = ন + দ; যেমন- ছন্দ
134) ন্দ্ব = ন + দ + ব; যেমন- দ্বন্দ্ব
135) ন্দ্য = ন + দ + য; যেমন- অনিন্দ্য
136) ন্দ্র = ন + দ + র; যেমন- কেন্দ্র
137) ন্ধ = ন + ধ; যেমন- অন্ধ
138) ন্ধ্য = ন + ধ + য; যেমন- বিন্ধ্য
139) ন্ধ্র = ন + ধ + র; যেমন- রন্ধ্র
140) ন্ন = ন + ন; যেমন- নবান্ন
141) ন্ব = ন + ব; যেমন- ধন্বন্তরি
142) ন্ম = ন + ম; যেমন- চিন্ময়
143) ন্য = ন + য; যেমন- ধন্য
144) প্ট = প + ট; যেমন- পাটি-সাপ্টা, ক্যাপ্টেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
145) প্ত = প + ত; যেমন- সুপ্ত
146) প্ন = প + ন; যেমন- স্বপ্ন
147) প্প = প + প; যেমন- ধাপ্পা
148) প্য = প + য; যেমন- প্রাপ্য
149) প্র = প + র; যেমন- ক্ষিপ্র
150) প্র্য = প + র + য; যেমন- প্র্যাকটিস (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
151) প্ল = প + ল; যেমন-আপ্লুত
152) প্স = প + স; যেমন- লিপ্সা
153) ফ্র = ফ + র; যেমন- ফ্রক, ফ্রিজ, আফ্রিকা, রেফ্রিজারেটর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
154) ফ্ল = ফ + ল; যেমন- ফ্লেভার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
155) ব্জ = ব + জ; যেমন- ন্যুব্জ
156) ব্দ = ব + দ; যেমন- জব্দ
157) ব্ধ = ব + ধ; যেমন- লব্ধ
158) ব্ব = ব + ব; যেমন- ডাব্বা
159) ব্য = ব + য; যেমন- দাতব্য
160) ব্র = ব + র; যেমন- ব্রাহ্মণ
161) ব্ল = ব + ল; যেমন- ব্লাউজ
162) ভ্ব =ভ + ব; যেমন- ভ্বা
163) ভ্য = ভ + য; যেমন- সভ্য
164) ভ্র = ভ + র; যেমন- শুভ্র
165) ম্ন = ম + ন; যেমন- নিম্ন
166) ম্প = ম + প; যেমন- কম্প
167) ম্প্র = ম + প + র; যেমন- সম্প্রতি
168) ম্ফ = ম + ফ; যেমন- লম্ফ
169) ম্ব = ম + ব; যেমন- প্রতিবিম্ব
170) ম্ব্র = ম + ব + র; যেমন- মেম্ব্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
171) ম্ভ = ম + ভ; যেমন- দম্ভ
172) ম্ভ্র = ম + ভ + র; যেমন- সম্ভ্রম
173) ম্ম = ম + ম; যেমন- সম্মান
174) ম্য = ম + য; যেমন- গ্রাম্য
175) ম্র = ম + র; যেমন- নম্র
176) ম্ল = ম + ল; যেমন- অম্ল
177) য্য = য + য; যেমন- ন্যায্য
178) র্ক = র + ক; যেমন - তর্ক
179) র্ক্য = র + ক + য; যেমন- অতর্ক্য (তর্ক দিয়ে যার সমাধান হয় না)
180) র্খ = র + খ; যেমন- মূর্খ
181) র্গ = র + গ; যেমন- দুর্গ
182) র্গ্য = র + গ + য; যেমন - বর্গ্য (বর্গসম্বন্ধীয়)
183) র্গ্র = র + গ + র; যেমন- দুর্গ্রহ, নির্গ্রন্হ
184) র্ঘ = র + ঘ; যেমন- দীর্ঘ
185) র্ঘ্য = র + ঘ + য; যেমন- দৈর্ঘ্য
186) র্চ = র + চ; যেমন- অর্চনা
187) র্চ্য = র + চ + য; যেমন- অর্চ্য (পূজনীয়)
188) র্ছ = র + ছ; যেমন- মূর্ছনা
189) র্জ = র + জ; যেমন- অর্জন
190) র্জ্য = র + জ + য; যেমন- বর্জ্য
191) র্ঝ = র + ঝ; যেমন- নির্ঝর
192) র্ট = র + ট; যেমন- আর্ট, কোর্ট, কম্ফর্টার, শার্ট, কার্টিজ, আর্টিস্ট, পোর্টম্যানটো, সার্টিফিকেট, কনসার্ট, কার্টুন, কোয়ার্টার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
193) র্ড = র + ড; যেমন- অর্ডার, লর্ড, বর্ডার, কার্ড (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
194) র্ঢ্য = র + ঢ + য; যেমন- দার্ঢ্য (অর্থাৎ দৃঢ়তা)
195) র্ণ = র + ণ; যেমন- বর্ণ
196) র্ণ্য = র + ণ + য; যেমন- বৈবর্ণ্য (বিবর্ণতা)
197) র্ত = র + ত; যেমন- ক্ষুধার্ত
198) র্ত্য = র + ত + য; যেমন- মর্ত্য
199) র্ত্র = র + ত + র; যেমন- কর্ত্রী
200) র্থ = র + থ; যেমন- অর্থ
201) র্থ্য = র + থ + য; যেমন- সামর্থ্য
202) র্দ = র + দ; যেমন- নির্দয়
203) র্দ্ব = র + দ + ব; যেমন- নির্দ্বিধা
204) র্দ্র = র + দ + র; যেমন- আর্দ্র
205) র্ধ = র + ধ; যেমন- গোলার্ধ
206) র্ধ্ব = র + ধ + ব; যেমন- ঊর্ধ্ব
207) র্ন = র + ন; যেমন- দুর্নাম
208) র্প = র + প; যেমন- দর্প
209) র্ফ = র + ফ; যেমন- স্কার্ফ (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
210) র্ব্য = র + ব + য; যেমন- নৈর্ব্যক্তিক
211) র্ভ = র + ভ; যেমন- গর্ভ
212) র্ম = র + ম; যেমন- ধর্ম
213) র্ম্য = র + ম + য; যেমন- নৈষ্কর্ম্য
214) র্য = র + য; যেমন- আর্য
215) র্ল = র + ল; যেমন- দুর্লভ
216) র্শ = র + শ; যেমন- স্পর্শ
217) র্শ্ব = র+ শ + ব; যেমন- পার্শ্ব
218) র্শ্য = র + শ + য; যেমন- অস্পর্শ্য
219) র্ষ = র + ষ; যেমন- ঘর্ষণ
220) র্ষ্য = র + ষ + য; যেমন- ঔৎকর্ষ্য
221) র্স = র + স; যেমন- জার্সি, নার্স, পার্সেল, কুর্সি (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
222) র্হ = র + হ; যেমন- গার্হস্থ্য
223) র্হ্য = র + হ + য; যেমন- গর্হ্য
224) ল্‌ফ = ল + ফ; যেমন- গল্‌ফ (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
225) ল্‌ভ = ল + ভ; যেমন- প্রগল্‌ভ
226) ল্ক = ল + ক; যেমন- শুল্ক
227) ল্ক্য = ল + ক + য; যেমন- যাজ্ঞবল্ক্য
228) ল্গ = ল + গ; যেমন- বল্গা
229) ল্ট = ল + ট; যেমন- উল্টো
230) ল্ড = ল + ড; যেমন- ফিল্ডিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
231) ল্প = ল + প; যেমন- বিকল্প
232) ল্ব = ল + ব; যেমন- বিল্ব, বাল্ব
233) ল্ম = ল + ম; যেমন- গুল্ম
234) ল্য = ল + য; যেমন- তারল্য
235) ল্ল = ল + ল; যেমন- উল্লাস
236) শ্চ = শ + চ; যেমন- পুনশ্চ
237) শ্ছ = শ + ছ; যেমন- শিরশ্ছেদ
238) শ্ন = শ + ন; যেমন- প্রশ্ন
239) শ্ব = শ + ব; যেমন- বিশ্ব
240) শ্ম = শ + ম; যেমন- জীবাশ্ম
241) শ্য = শ + য; যেমন- অবশ্য
242) শ্র = শ + র; যেমন- মিশ্র
243) শ্ল = শ + ল; যেমন- অশ্লীল
244) ষ্ক = ষ + ক; যেমন- শুষ্ক
245) ষ্ক্র = ষ + ক + র; যেমন- নিষ্ক্রিয়
246) ষ্ট = ষ + ট; যেমন- কষ্ট
247) ষ্ট্য = ষ + ট + য; যেমন- বৈশিষ্ট্য
248) ষ্ট্র = ষ + ট + র; যেমন- রাষ্ট্র
249) ষ্ঠ = ষ + ঠ; যেমন- শ্রেষ্ঠ
250) ষ্ঠ্য = ষ + ঠ + য; যেমন- নিষ্ঠ্যূত
251) ষ্ণ = ষ + ণ; যেমন- কৃষ্ণ
252) ষ্প = ষ + প; যেমন- নিষ্পাপ
253) ষ্প্র = ষ + প + র; যেমন- নিষ্প্রয়োজন
254) ষ্ফ = ষ + ফ; যেমন- নিষ্ফল
255) ষ্ব = ষ + ব; যেমন- মাতৃষ্বসা
256) ষ্ম = ষ + ম; যেমন- উষ্ম
257) ষ্য = ষ + য; যেমন- শিষ্য
258) স্ক = স + ক; যেমন- মনোস্কামনা
259) স্ক্র = স + ক্র; যেমন- ইস্ক্রু (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
260) স্খ = স + খ; যেমন- স্খলন
261) স্ট = স + ট; যেমন- স্টেশন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
262) স্ট্র = স + ট্র; যেমন- স্ট্রাইক (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
263) স্ত = স + ত; যেমন- ব্যস্ত
264) স্ত্ব = স + ত + ব; যেমন- বহিস্ত্বক
265) স্ত্য = স + ত + য; যেমন-অস্ত্যর্থ
266) স্ত্র = স + ত + র; যেমন- স্ত্রী
267) স্থ = স + থ; যেমন- দুঃস্থ
268) স্থ্য = স + থ + য; যেমন- স্বাস্থ্য
269) স্ন = স + ন; যেমন- স্নান
270) স্প = স + প; যেমন- আস্পর্ধা
271) স্প্‌ল = স + প + ল; যেমন- স্প্‌লিন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
272) স্প্র = স + প +র; যেমন- স্প্রিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
273) স্ফ = স + ফ; যেমন- আস্ফালন
274) স্ব = স + ব; যেমন- স্বর
275) স্ম = স + ম; যেমন- স্মরণ
276) স্য = স + য; যেমন- শস্য
277) স্র = স + র; যেমন- অজস্র
278) স্ল = স + ল; যেমন- স্লোগান
279) হৃ = হ + ৃ; যেমন- হৃৎপিন্ড
280) হ্ণ = হ + ণ; যেমন- অপরাহ্ণ
281) হ্ন = হ + ন; যেমন- চিহ্ন
282) হ্ব = হ + ব; যেমন- আহ্বান
283) হ্ম = হ + ম; যেমন- ব্রাহ্মণ
284) হ্য = হ + য; যেমন- বাহ্য
285) হ্র = হ + র; যেমন- হ্রদ
286) হ্ল = হ + ল; যেমন- আহ্লাদ

যুক্তবর্ণ বলতে একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। বাংলা লিখনপদ্ধতিতে যুক্তবর্ণের একটি বিশেষ স্থান আছে। এগুলি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপাদান বর্ণগুলির চেয়ে দেখতে ভিন্ন, ফলে নতুন শিক্ষার্থীর এগুলি লেখা আয়ত্ত করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

যুক্তবর্ণগুলি বাংলা লিখন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য। উচ্চারিত ধ্বনির সাথে এগুলির উপাদান ব্যঞ্জনবর্ণের নির্দেশিত ধ্বনির সবসময় সরাসরি সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে। যেমন - পক্ব -এর উচ্চারণ পক্‌কো; বানানে ব-ফলা থাকলেও উচ্চারণে ব ধ্বনিটি অনুপস্থিত। রুক্ষ-এর উচ্চারণ রুক্‌খো; বানানের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষ যুক্তবর্ণটি ক ও ষ-এর যুক্তরূপ হলেও উচ্চারণ হয় ক্‌খ। বানান ও ধ্বনির এই অনিয়মও শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তবর্ণের সঠিক ব্যবহারে একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখুন


হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখুন


আপনার কম্পিউটারে ব্যক্তিগত অনেক তথ্য থাকতেই পারে, যেসব আপনি অন্যদের দেখাতে চান নাসে ক্ষেত্রে চাইলে হার্ডডিস্কের যেকোনো ড্রাইভ লুকিয়ে রাখতে পারেনউইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারে এটি খুব সহজেই করা যায় জন্য প্রথমে স্টার্ট মেনু থেকে Run-এ যেতে হবেএর পর সেখানে cmd লিখে এন্টার করুনকমান্ড প্রম্পট চালু হবেকমান্ড প্রম্পট চালু হলে ইউজার নেমের পাশে সবশেষে diskpart লিখে এন্টার করুন
উইন্ডোজ সেভেনের ক্ষেত্রে একটি নোটিফিকেশন আসবেসেটাতে ইয়েস করে দিলেই নতুন একটি কমান্ড প্রম্পট (নতুন উইন্ডো) চালু হবেসেখানে DISKPART> এর পরে লিখুন list volume এবং এন্টার করুনসব কটি ড্রাইভের একটি তালিকা আসবে এখন যে ড্রাইভটি আপনি লুকাতে চান (হাইড) চান, সেটির ভলিউম নম্বর লিখুন লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, প্রতিটি ড্রাইভের পাশেই এর ভলিউম নম্বর লেখা আছে যেমনআপনি যদি D:\ ড্রাইভ হাইড করতে চান, তাহলে D:\ ড্রাইভের ভলিউম নম্বর লিখে এন্টার করুনD:\ ড্রাইভের ভলিউম নম্বর ৪ হলে লিখুন DISKPART>-এর পরে লিখুন select volume 4, তাহলে আপনার D:\ ভলিউমটি নির্বাচন করা হবে তারপর লুকানোর জন্য DISKPART>-এর পরে লিখুন remove letter D, তাহলে আপনার নির্বাচন করা ড্রাইভটি লুকিয়ে পড়বেযদি ড্রাইভটি আবার দেখতে চান, তাহলে লুকানো ড্রাইভটি একই পদ্ধতিতে নির্বাচন করে লিখুন assign letter D এবং Command Prompt বন্ধ করে দিনএবারে মাই কম্পিউটারে গেলে ড্রাইভটি আবার দেখতে পাবেনফয়সাল হাসান


সূত্র: দৈনিক প্রথম-আলো, কম্পিউটার প্রতিদিন (হেল্পলাইন) ।

তারিখ: ১৬-০১-২০১২

মুদ্রাস্ফীতি বনাম মূল্যস্ফীতি


মুদ্রাস্ফীতি বনাম মূল্যস্ফীতি


দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিষয়ে সাধারণ শিক্ষিত মানুষ, অর্থনীতিবিদ, ভোক্তাসাধারণসবার আলোচনায় যে কথাগুলো ঘুরেফিরে আসে, তা হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতি ইত্যাদিএই দুটি ধারণার সাধারণীকৃত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে সামান্য বিভ্রান্তিআমরা যখন মুদ্রাস্ফীতি কথাটা ব্যবহার করি, তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ধারণাকে এক করে ফেলিঅবশ্য এই বিভ্রান্তির কারণও আছেমুদ্রাস্ফীতি বলতে অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধিকেই বোঝানো হয়অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে এবং পণ্য ও সেবার সরবরাহ অপরিবর্তিত থাকলে মূল্যস্ফীতি ঘটেকারণ অনেক বেশি টাকা সীমিত পণ্য ও সেবার পেছনে ধাওয়া করেএতে চাহিদা ও মূল্যস্তরদুটিই বেড়ে যায়শাস্ত্রীয় ও আভিধানিক অর্থেও মুদ্রাস্ফীতির অর্থ সব ধরনের পণ্য ও সেবামূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি, যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে, যাতে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়বলা হয়, ‘মুদ্রাস্ফীতিতে সবকিছু মহার্ঘ হয়ে যায় কেবলমাত্র অর্থের মূল্য ছাড়াসাধারণ অর্থে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এটিই সহজবোধ্য সম্পর্ক এবং মুদ্রাস্ফীতির স্বাভাবিক ধর্মটিও এ রকমকিন্তু একে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না
প্রকৃতপক্ষে মূল্যস্তর কমলেও মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে; আবার মুদ্রাস্ফীতি না থাকলেও মূল্যস্তর বাড়তে পারেএককথায়, মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে এর একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর প্রবণতা কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করে একাধিক নিয়ামকের ওপরযেমন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উ কর্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা মোবাইল ফোন সেটের দাম কমে আসছে এবং সেটা ঘটতে পারে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজমান অর্থনীতিতেও আবার একটা মন্দাক্রান্ত অর্থনীতিতে কোনো বিশেষ পণ্য বা সেবার মূল্য বাড়তে পারে, যদি এর চাহিদা কারণবশত হঠা বেড়ে যায়যেমন আমাদের দেশে মুদ্রাস্ফীতির বিপরীত অবস্থা অর্থা মন্দাভাবও যদি বিরাজ করে, তবু ভূসম্পত্তি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যস্ফীতি থেমে থাকবে নাকারণ, এর রয়েছে বিশাল চাহিদা, সীমিত সরবরাহ এবং অর্থায়ন প্রাপ্তির সুবিধা
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি বিষয় গুলিয়ে ফেলা হয়সেটা হচ্ছে ভোক্তা মূল্যসূচকএটি মূলত মূল্যহার পরিবর্তনের হিসাব, যা দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয়এই হিসাবের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা হয়তারপর সেই ভিত্তি বছরকে বিবেচনায় রেখে একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্যস্তর পর্যবেক্ষণ করে রেকর্ড রাখা হয়ধরা যাক, মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের জন্য কেবল একটি পণ্যের মূল্যের ওপর ভোক্তা মূল্যসূচক নির্ধারণ করা হয়এবং ভিত্তি বছর ২০০০ সালে সেই পণ্যটির দাম ছিল এক টাকা এবং এর মূল্যসূচক ১০০পরের বছর (২০০১) সেই পণ্যটির দাম যদি বেড়ে দাঁড়ায় এক টাকা ২০ পয়সায়, তাহলে মূল্যসূচক হবে ১২০এখন আমরা ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যদি মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করতে চাই এবং ২০১১ সালে সেই পণ্যটির মূল্যসূচক যদি হয় ১৫০, তাহলে এই ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার হবে (১৫০-১২০)১২০ = ০.২৫, অর্থা শতকরা হিসাবে ২৫ শতাংশএ রকম কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বা একক পণ্যের তুলনামূলক মূল্যবৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যায় না, যদিও একে সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে এক করে দেখা হয়কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে সেই পণ্যের বাড়তি চাহিদা কিংবা সরবরাহ ঘাটতির কারণেঅথচ সাধারণ মূল্যস্ফীতি তথা মুদ্রাস্ফীতি চাহিদা সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়এটি নির্ভর করে অর্থনীতির ভাষায় সামগ্রিক চাহিদার ওপরসামগ্রিক চাহিদা বলতে বোঝায়, একটি অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার ওপর সব ভোক্তার মোট ব্যয়, মোট বিনিয়োগ ব্যয়, মোট সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানি আয় (আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে)সবকিছুর সমষ্টিআর এই সামগ্রিক চাহিদা প্রভাবিত হয় মুদ্রা সরবরাহ দ্বারাঅতএব, মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে একটি মুদ্রানৈতিক বিষয় এবং এর পেছনে কোনো একক পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্পর্ক নেইবরং সেই পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির পরও মূল্যস্ফীতি না ঘটে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে কিংবা উভয়ই ঘটতে পারেযেমন, কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ব্যাপক হারে বেড়েছে মুরগি ও ডিমের উ পাদনকিন্তু এতে কি মূল্য কমেছে? নাকি বেড়েছে? সুতরাং, কোনো একক পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় নাসঠিক সংজ্ঞার মুদ্রাস্ফীতিই কেবল সঠিক মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সেটি যদি হয় চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতিতাহলে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছেসেটি হচ্ছে দেশের মুদ্রানীতি, যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকমুদ্রানীতি হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি ও প্রবৃদ্ধিকে ঠিক পথে চালানোর জন্য মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা মূলত করা হয় অর্থ সরবরাহ এবং সুদের হারের মাধ্যমে
অন্যভাবে বলতে গেলে, মুদ্রানীতি দিয়ে অর্থনীতির মোট চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে চাহিদাজাত মুদ্রাস্ফীতিকে বাগে আনার চেষ্টা করা যায়চাহিদা ব্যবস্থাপনার এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যস্তর ও বিনিয়োগ স্থিতিশীল রাখামুদ্রানীতির এই কৌশল প্রয়োগ করা হয় সুদের হার এবং অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদাকে বশে রাখার জন্যঅর্থ সরবরাহ এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ করলে মুদ্রাবাজারে স্বল্প মেয়াদে সুদ বেড়ে যায় এবং ব্যাংকের বাড়তি তহবিল সংগ্রহের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে আমানত এবং ঋণের ওপর সুদ বেড়ে যায়এতে বিনিয়োগ কমে যায়আর এ কারণে অর্থনীতিতে হ্রাস পায় সামগ্রিক চাহিদাহ্রাসকৃত বিনিয়োগের জন্য মানুষের ভোগও কমে যায়, যা আবার প্রভাব ফেলে সামগ্রিক চাহিদার ওপরএতে দেখা যায়, ঋণ সংকোচন করে বিনিয়োগ, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমানো যায়, যে প্রক্রিয়ায় একসময় বশে আসে মুদ্রাস্ফীতি
তবে আজকাল মুদ্রানীতির এই উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা নতুনভাবে আলোকপাত করছেনভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ওয়াই ভি রেড্ডি লেখেন, ‘মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য এখন আর মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখায় সীমাবদ্ধ নেই...এর উদ্দেশ্য এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পর্যন্ত বিস্তৃত
আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট ডেনিস লকহার্ট বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি সবকিছুর মূল্য বাড়ায়এটা কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা কোনো বিশেষ শ্রেণীর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়
তাঁর মতে, নির্দিষ্ট বাজারে পণ্যমূল্যকে নিয়মানুগভাবে প্রভাবিত করতে অক্ষম মুদ্রানীতি একটা ভোঁতা অস্ত্রতাঁর মতে, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওঠানামা এবং কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে অক্ষমআমরা তেল উ পাদন করি নাখাদ্যও ফলাই নাকিংবা দিই না স্বাস্থ্যসেবাযেসব ঘটনা কোনো কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আপনাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ঘটায় যেমন, তেলের অনাগত ধাক্কা কিংবা খরা অথবা ধর্মঘটএসব আমরা ঠেকাতে পারি না
অতএব বাজারধর্মে ঘটা পণ্যের তুলনামূলক মূল্য সংশোধন ঠেকানো মুদ্রানীতির কাজ নয়এর কাজ হচ্ছে অর্থনীতিতে সব মূল্য পরিবর্তনের সামগ্রিক লক্ষ্য ও গতিকে নিয়ন্ত্রণ করাসে কারণেই আমরা দেখতে পাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন সুদের হার কিংবা ব্যাংকগুলোর নগদ জমা ও তারল্য হার বাড়ায়, সেটা বাজারের কোনো পণ্যের দাম কমাতে পারে নাতাহলে প্রশ্ন করা যায়, মুদ্রানীতি যদি জীবনযাত্রার ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এই নীতির দরকার কী? লকহার্ট এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, দরকারটি হচ্ছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থিরতা আনা, যা সম্ভব আর্থবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার মাধ্যমে
আমাদের দেশেও যখন ষাণ্মাষিক মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়, তখন বিভিন্ন মহল থেকে আশা করা হয়, এটি দিয়ে অর্থনীতির সব সমস্যা, যেমন শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময়মূল্যসবকিছুর সমাধান করে ফেলা যাবেমুদ্রানীতির কর্মক্ষেত্র যেহেতু চাহিদা ব্যবস্থাপনা, এটি অর্থনীতির সরবরাহ ক্ষমতার ওপর কার্যকর নয়এটি দিয়ে সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করে এর হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটানো যায়, আর এটি করা হয় সুদের হারের তারতম্য ঘটিয়ে
এই সত্য থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা হচ্ছে, কেবল চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতিকে মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়কিন্তু যে মূল্যস্ফীতি ব্যয়বৃদ্ধিজনিত, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মুদ্রানীতি অক্ষমযেমন আমাদের অর্থনীতিতে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতিযা-ই বলা হোক না কেন, ঘটে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে, কখনোই চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়, যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে চাহিদা প্রতিবছর বেড়েই চলেছেসুতরাং মুদ্রানীতি দিয়ে চাহিদা ব্যবস্থাপনা করে খাদ্য কিংবা কোনো একক পণ্যমূল্য কমানো সম্ভব নয়এর আরও একটি কারণ হচ্ছে, খাদ্যের অস্থিতিস্থাপক চাহিদা অর্থা খাদ্যের দাম যা-ই হোক না কেন, মানুষকে তার মৌলিক চাহিদার প্রধানতমটি, অর্থা খাদ্যচাহিদা মেটাতে হবেকিন্তু খাদ্য ছাড়া অন্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি কম থাকলেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে খাদ্যমূল্যের ওপরতাই আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যমূল্যের প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ খাদ্যমূল্য এবং তা ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনাই বেশিআমাদের দেশে কিংবা ভারতে বিগত বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাগে রাখার জন্য ক্রমাগত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
তাহলে শেষ পর্যন্ত যে কথাটি বোঝা যাচ্ছে, দেশের মুদ্রানীতি যা-ই হোক না কেন, খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার ওপর, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নয়অতএব, মূল্যসূচক নির্ধারণের জন্য খাদ্যপণ্য প্রধানতম সামগ্রী হলেও এর মূল্য দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করলে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার




সূত্র: দৈনিক প্রথম-আলো, খোলা কলম

তারিখ: ১৫-০৯-২০১১

সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১২

এবার সাবধান হওয়ার পালা


এবার সাবধান হওয়ার পালা



প্রেমের ফাঁদ পেতে পর্নোগ্রাফি ধারণ করে ইন্টারনেটে ছাড়ছে দুর্বৃত্তরাছড়িয়ে পড়ছে মোবাইল থেকে মোবাইলেএমনকি কারো গোপন দৃশ্য চলে যাচ্ছে পর্ণো-ভিডিও ব্যবসায়ীদের হাতেনারীরা শিকার হচ্ছে সন্ত্রাস, অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়েরহাল সময়ে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে এ ধরনের অপরাধ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করছে সরকারএটা কতটা কার্যকর হবে? লিখেছেন জিনাত রিপা ও আরাফাত শাহরিয়ার
ঘটনা ১
স্কুলের গেটের সামনে থেকে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় পাঁচ-ছয়জন যুবকনিয়ে যাওয়া হয় মহাখালীর একটি আবাসিক হোটেলেগণধর্ষণ করে সে দৃশ্য ধারণ করে ক্যামেরায়রাত ১২টায় মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে বলা হয়, এ কথা কাউকে বললে ভিডিও বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবেমেয়েটি কথা রাখলেও নরপশুরা ওই ভিডিও ছেড়ে দেয় ইন্টারনেটেতা ছড়িয়ে পড়ে মোবাইল ফোনেও ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর গেল বছরের এপ্রিলে অভিযুক্তদের একজন আতিকুল ইসলাম ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

ঘটনা ২
মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল অভি মিয়া একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মেয়েটি এ প্রস্তাবে মিথ্যা সায় দেয়একদিন সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় অভিজোর করে আপত্তিকর কিছু ছবি তোলেপরে বিয়ের কথা বলে মেয়েটির অনিচ্ছা সত্ত্বেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেএই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে অভির এক সহযোগীমেয়েটি বিয়ের কথা বললে বেঁকে বসে অভিউল্টো আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়পরে তা করেও২০১১ সালের জুলাই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঘটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ এবং ইন্টারনেটে ছবি ও ভিডিওচিত্র ছাড়ার এ ঘটনা

ঘটনা ৩
তাজুলের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় স্কুলে যাওয়া-আসার পথেএকসময় দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্কগত ২৫ মার্চ সকালে বিয়ে করার কথা বলে প্রাইভেট কারে করে মেয়েটিকে অজ্ঞাত একটি বাড়িতে নিয়ে যায় তাজুলকোমল পানীয়ের সঙ্গে উত্তেজক পদার্থ খাইয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেএ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাইভেট কার থেকে মেয়েটিকে মাঝপথে নামিয়ে দেয় তাজুলমাদ্রাসার উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র তাজুল এ ঘটনার দুই মাস পর মোবাইলে ধারণ করা ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেয় বিভিন্ন মোবাইলে ঘটনাটি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার

নতুন আইন, নতুন স্বপ্ন
দেশে প্রতিনিয়ত মেয়েরা শিকার হচ্ছে এ ভয়াল ব্যাধিরপ্রায়ই এমনটি ঘটলেও অনেক ঘটনাই থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর অন্তরালেবখাটেরা ভিডিও বা স্থিরচিত্রের ভয় দেখিয়ে ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে ঘটনার শিকার নারীদেরলজ্জা ও ভয়ে মুখ খুলতে পারে না মেয়েরাএত দিন যে আইন ছিল, তা একেবারেই দুর্বল, যার ফাঁক গলে খুব সহজেই বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অপরাধীদেরতাই অহরহ এ অপরাধ ঘটলেও ছিল না এ আইনের চল
সম্প্রতি এ সামাজিক অপরাধ বন্ধে সব ধরনের পর্নোগ্রাফি উপাদন এবং সরবরাহ নিষিদ্ধ করে সরকার প্রণয়ন করেছে একটি নতুন আইনইতিমধ্যে খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনও করেছে মন্ত্রিসভা২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়আইন অমান্য করলে সবর্োচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান
রাখা হয়েছে
আইনজ্ঞ বলেন :
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালের যে আইনটা ছিল, সেটার ব্যবহার ছিল নাপ্রথম কেস আমরাই করেছি, সেটাও আবার কয়েক মাস আগেচেক করতে গিয়ে দেখেছি, আইনটা খুবই দুর্বলউপলব্ধি করেছি, এটার পরিবর্তন দরকারআমরা বলেছি, একটি সুনির্দিষ্ট আইন চাই এবং আমাদের কাছে অনেক কেস আসছেলজ্জায়, লোকভয়ে অনেকে অভিযোগ করছে পারছে না, শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় আমরা সেভাবে সাপোর্টও দিতে পারছি নাঅনেক অল্পবয়সী মেয়েও ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার হচ্ছেএকটা মেয়ে হয়তো দেশের বাইরে থাকে, সেও রেহাই পাচ্ছে নাআমি একজন প্রিটিশনার, অনেক বছর ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিঅনেক কেস করেছিএর আগে মানবপাচার আইন, অ্যান্টিভায়োলেন্ট ', অন্যান্য আইন প্রণয়নের সময় আমরা সরাসরি সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম ড্রাফট করে দিয়েছি, নিজেরা কোর-কমিটিতে ছিলামকিন্তু দুঃখের বিষয়, আইনটা নিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনিএর আগে এ বিষয়ে চেষ্টা করেও আমরা পারিনিপাস হওয়ার পর আমরা কিন্তু খসড়া আইনও পাইনিএখন এটি পার্লামেন্টে যাবেআমাদের কাছে অবাক লাগছে, সরকার কেন আমাদের অ্যাকসেস দেয়নিওয়েবসাইটে নেই, হোম মিনিস্ট্রি, ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি ও অন্যান্য মিনিস্টিতে চেয়েও আমরা এটি পাইনিএটা কিন্তু আমাদের কাছে খুবই সন্দেহজনক এর মধ্যে হয়তো এমন কোনো বিষয় আছে, যা বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হবে অথবা এর অপব্যবহারও হতে পারেআলোচনা সাপেক্ষে যদি হতো, আইনের দুর্বল বিষয়গুলোও উঠে আসতআইনে যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেইআমি মনে করি, এটা যথেষ্টবাস্তবায়ন করাই; কিন্তু প্রতিটা আইনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জআইন প্রয়োগের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে যে ভূমিকাটা আছে, তা কার্যকর হবে কি না দেখার বিষয় ভিকটিমের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়গুলো দেখতে হবেনিশ্চিত করতে হবে জবাবদিহিতার বিষয়টিও

আইনের প্রয়োগ হবে তো?
বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনেআইনের অধীনে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর বা সমমানের কর্মকর্তা পর্নোগ্রাফি ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করবেনতাঁরা অভিযুক্তদের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে সোপর্দ করবেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন মনে করেন, আলোচিত কোনো ঘটনার বিচার করে আইনটির দ্রুত প্রয়োগ করতে হবে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবেতিনি বলেন, 'অতীতে যেসব ঘটনা ঘটে গেছে, তা এ আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবেএতে সবাই শাস্তির কথাটি জেনে যাবেআর এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সাহসী ভূমিকা নিতে হবেনা হলে এটি আইন হিসেবেই
থেকে যাবে'
আইনয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা যথাযথ না হলে এ দোষীরা ধরা পড়বে না, ভিকটিম পরিবার পড়বে উল্টো হুমকির মুখেতাই সবার আগে ভিকটিমের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবেএমনটিই মনে করেন একটি বেসরকারি সংস্থার উন্নয়নকর্মী জিহাদ বিন শামস

কে কী বলেন
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাতিন হাসান মনে করেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা আছেতিনি বলেন, 'টেলিভিশন ও অন্যান্য জাতীয় প্রচারমাধ্যমে নতুন প্রণীত আইন ও শাস্তির বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবেএ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে হবে'
কেউ যেন আইনের অপব্যবহারের সুযোগ না পায়, মাথায় রাখতে হবে সে বিষয়টিওপ্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম
সূত্র : দৈনিক কালের কণ্ঠ, জয়িতা । তারিখ : ২৪-০১-২০১২ইং

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১২

বাল্যবিবাহ

  বাল্যবিবাহ
বাল্যবিবাহ কী?
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সাথে ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকেই বাল্যবিবাহ বলা হয়। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বাল্যবিবাহ বলতে বোঝায়, বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিয়ে। এছাড়া বর-কনে দুজনেরই বা একজনের বয়স বিয়ের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের কম হলে অর্থাৎ বিয়েতে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে অথবা ছেলের বয়স ২১ বছরের নিচে থাকলে সেটাও আইনের চোখে বাল্যবিবাহ বলে চিহ্নিত হবে। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী-
·    বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
·    শিশু বিবাহকারী পুরুষ, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনকারী কাজী, পিতা-মাতা, অভিভাবকসহ বাল্যবিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ এই বিয়ের সাথে যুক্ত সকলেই শাস্তি পাবেন
·    বাল্য বিবাহ একটি বাতিলযোগ্য বিবাহ

বাল্যবিবাহের কারণ:
১। পিতা-মাতার অজ্ঞতা ।
২। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ।
৩। যৌতুকের নির্মতা ।
৪। আর্থিক স্বল্পতা ও লোভ ।
৫। অতি অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের যৌবন প্রাপ্ততা ।
৬। নারী সমাজকে হীন চোখে দেখা ।
৭। অশ্লীল সংস্কৃতি ।
৮। সরকারের আন্তরিকতার অভাব ও ব্যর্থতা ।
১। পিতামাতার অজ্ঞতা: কথায় আছে “নির্বোধ বন্ধু অপেক্ষা জ্ঞানী শত্রু অনেক শ্রেয়” ।অর্থাৎ অশিক্ষিত বন্ধুর চেয়ে শিক্ষিত শত্রু অনেক উত্তম । বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ ।এজন্যে পিতা-মাতারা অধিক পরিমানে সন্তান জন্মদান করেন ।তারা ভাবেন, বেশি সন্তান থাকলে কৃষি খরচ(লেবারের মজুরী) কমে যাবে ।কৃষি কাজ করার জন্য তারা তাদের সন্তানকে স্কুলেও পাঠাতে আগ্রহী হন না ।তারা তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সংসারী করার জন্য অতি অল্প বয়সে বিয়ে করান ।বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে তারা ভাবেন ঘরে মেয়ে বেশি দিন থাকলে সংসারের অযথা খরচ(খাওয়া, পোশাক, বাসস্থান ইত্যাদি খরচ) বৃদ্ধি পাবে । তাই তারা তাদের মেয়েকে পরের ঘরে বিদায় করে খরচ লাঘব(কমাতে) করতে চান ।
২। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: অশিক্ষিত সমাজ ভাবে যুবক-যুবতী ঘরে রাখা পাপ ।আরও ভাবে যৌবন প্রাপ্ত ছেলে-মেয়েরা সমাজে থাকলে অসামাজিক কাজে যুক্ত হবে ।তাই এই সমাজ যুবক-যুবতীকে ঘরে রাখাকে তিরষ্কার প্রদান করে ।আবার সমাজের রীতি-নীতি না মানলেও অনেক পরিবারকে একঘরে হয়েও থাকতে হয় অনেক সময় ।
৩। যৌতুকের নির্মমতা: আজকের দিনে যৌতুক ছাড়া একটি মেয়ের বিয়ে দেওয়া কল্পনাই করা যায় না ।ঘরে মেয়ে যতই বড় হয় ততই যৌতুকের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে ।তাই বাবা-মায়েরা অল্প বয়সে স্বল্প যৌতুকে মেয়েকে বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দায় সাড়াতে চান ।
৪। আর্থিক স্বল্পতা ও লোভ: অভাবী ছেলের বাবা-মায়েরা চান ছেলেকে বিয়ে করিয়ে মোটা অংকের যৌতুক(নগদ টাকা, গহনা, দামী জিনিস পত্র, গাড়ী ইত্যাদি) সহ ঘরে পুত্র বধু আনতে ।(প্রিয় পাঠক, লক্ষ্য করুন বিয়েটা কাকে করা হচ্ছে, মেয়েকে ? না সম্পদকে ?) এছাড়া অভাবে বা টাকা বাচানোর জন্যে বাবা-মাযেরা কচি (৮-১১বছর) বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে থাকেন ।
৫। অতি অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের যৌবন প্রাপ্ততা: এদেশের ছেলে-মেয়েরা অতি অল্প বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় ।এর পিছনে কিছু লক্ষণীয় কারণ আছে ।
কারণ গুলো হল:
 ১। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল ।
 ২। বেশি পরিমানে শাক-সবজি খাওয়া ।
অল্প বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হওয়ায় অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা নিজেদেরকে যৌবনের হাত থেকে সামলাইতে পারে না ।শুধু যৌবণের নেশায় বিভোর হয়ে থাকে ।এ কারণে বাবা-মায়েরা তাদের ছেলে-মেয়েকে তড়ি-ঘড়ি করে বিয়ে করান ।বাবা-মায়েদের মাঝে একটিই আতংক কাজ করে যে, কখন কোন অঘটন ঘটে যায় ।বাবা-মায়েরা বিয়ে করাতে না চাইলেও কিছু ছেলে-মেয়েরা যৌবণের তাগিদে পালিয়ে বিয়ে করে থাকেন ।
৬। নারী সমাজকে হীন চোখে দেখা: সারা বিশ্বে নারী-সমাজকে হীন চোখে দৃষ্টিপাত এবং তাদেরকে অবহেলা করা হয় ।দুঃখজনক একটা বিষয় না বললেই নয় যে, আমাদের মাঝে কিছু ধর্মীয় পুরাহিত(ধর্মীয় সাধক) আছেন যারা ধর্মীয় আদেশের ভুল ব্যাখ্যা করে করে নারী সমাজকে অবজ্ঞায় পতিত রাখেন ।এর দরুণ নারী সমাজকে অতি উচ্চ মূল্য গুনতে হচ্ছে ।বাবা-মায়েরা ভাবেন মেয়েদের পড়াশুনার প্রয়োজন নাই, মেয়েরা তাদের সংসারের কোন উন্নয়নে অংশগ্রহন করতে পারবে না ।পারেনা কোন চাকরি করিয়া অর্থ উপার্জন করতে ।এজন্যে বাবা-মায়েরা চান যত তারা-তাড়ি সম্ভব ধর্মীয় বিধিমালা অনুযায়ী মেয়েকে শ্বশুর বাড়ীতে বিদায় করে দায় সারাতে ।এতে বাল্যবিবাহের হার বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
৭। অশ্লীল সংস্কৃতি: আজকাল টেলিভিশনের চ্যানেল পাল্টাতেই চোখে পড়ে অশ্লীল দৃশ্য ।ইন্টারনেট ব্লাউজিং করতেই চোখে পড়ে অশ্লীল ছবি, গান ও গল্পের ভাণ্ডার ।যেটা শিক্ষার একটি অংশ সেখানেই অশ্লীলতা ।তাহলে এটি কী নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করবে? রাস্তা-ঘাটে (বিশেষ করে পার্কে, রাস্তার ধারে, বিশেষ কোন অনুষ্ঠানে, মেলা-প্রদর্শনীতে) যে দৃশ্যমান ছবিটি চোখে পড়ে তা হল, ছোট-খাটো পোশাক পরিধান রত ঝলমলে উড়ন্ত লাগাম বিহীন প্রজাপতির মত উড়ে বেড়ানো একদল তরুণীকে ।এতে দৃষ্টি ভ্রষ্ট হয়ে যুবকরা নিজেদের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে ।বাবা-মায়েরা চান তাড়া-তাড়ি ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ধর্মীয়-সামাজিক দায় তথাপী পাপ এড়াতে ।
৮। সরকারের আন্তরিকতার অভাব ও ব্যর্থতা: সন্মানিত পাঠক, এখানে অবাক হবার কিছুই নেই যা সচারচর ঘটে থাকে তা হল একটি বাল্যবিবাহ আয়জনের অপরাধে পিতা-মাতাকে গুনতে হয় মাত্র ১০০০(এক হাজার) টাকা । এছাড়া বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সরকারের তেমন উল্লেখ যোগ্য আইন বা প্রতিরোধ ব্যবস্হা নেই । কিছু আইন থাকলেও তার বাস্তবায়নে উদ্দেক নেই । দেশের প্রতি গ্রামেই অহরহ বাল্যবিবাহ ঘটছে, তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রশাসনিক তেমন কোন সু-ব্যবস্থা নেই এবং দেখার কেউ নেই ।চলছে শুধু স্লোগান আর ক্ষমতাসীনদের চটকুদার কথা ।
বাল্যবিবাহের উৎপত্তি: এখনো বাল্যবিবাহের উৎপত্তির ইতিহাস সঠিক ভাবে জানা সম্ভব হয়নি ।বিভিন্ন দিক থেকে অনুমান করা যায় যে, পৃথিবীর আদিকাল হতেই বাল্যবিবাহের মত একধরনের সেক্সুয়াল নিয়ম চালু হয়ে আসছিল ।সেই নিয়মেরই ধারা বাল্যবিবাহ বলে ধারণা করা হচ্ছে ।সে কালে চিকিৎসা-বিজ্ঞান বলতে কিছু ছিলনা বলে বাল্যবিবাহের বিষয়টি তেমন আলোকিত হয়নি ।আধুনিক কালে চিকিৎসা-বিজ্ঞান উন্নতি হওয়ায় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে গন-সচেতনতা গড়ে উঠছে ।
***প্রিয় পাঠক, আজ এই টুকুই আগামী দিনে এর বাকী যোগ করব (ইনশা আল্লাহ) । আমাদের সাথেই থাকুন এবং দোয়া রাখবেন ।কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকলে আমাদের জানাবেন ।***