বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১২

ভালবাসার র্পূণ সংজ্ঞা


ভালবাসার র্পূণ সংজ্ঞা
ভালবাসার সংজ্ঞা জানতে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে গিয়েছিলাম ।
চলুন দেখি তারা কে কী বলে………..
ছাত্র: ভালবাসার র্পূণ অর্থ হল রাত জেগে ফোনে কথা বলা আর পার্কে ডেটিং মারা ।
ভা: ভাল-মন্দ চিন্তা না করে
লো: লোক-লজ্জা উপেক্ষা করে
বা: মা-বাবার মূখে চুনকালি দিয়ে
সা: সাগরে ঝাপ দেয়া
গণিত শিক্ষক: যার র্দৈঘ্য, প্রস্থ ও বেধ নেই শুধু গভিরতা আছে তাকেই ভালবাসা বলে ।
ডাক্তার: ভালবাসা এমন এক রোগের নাম- যা ঘুম নষ্ট করে, ক্ষুধা কমায়, চিন্তা বৃদ্ধি করে ।
পুলিশ: ভালবাসা এমন এক জেলখানা, যেখানে হৃদয় বন্দীদের খেলা চলে ।
রাজনীতিবিদ: ভালবাসা হলো পার্কে, গাছতলায় ও চাইনিজে সেমিনার আর বক্তৃতা ।
ভিখারী: ভালবাসা হল একজনের মন আর এক জনকে ভিক্ষা দেওয়া বা অন্য জনের মন ভিক্ষা নেওয়া ।
কুলি: ভালবাসা মনে অপরের সুখ-দূঃখ আঁটি বেধে বহন করা ।
মাঝি: ভালবাসা হলো মন-অভিমান এবং কিছু আবেগের দাঁড় টানা ।
বিক্রেতা: ভালবাসা হচ্ছে হৃদয়ের ক্রয়-বিক্রয় ।
বাড়িওয়ালা: ভালবাসা মানেই দুই বেড, বাথ, ড্রইং আর একটা সুন্দর বারান্দা ।
র্ব্যথ-প্রেমিক: ভালবাসা বলে নেই তো কিছু, ভালবাসা মানে ফাঁকি ।

টেনশন দূর করার উপায়


টেনশনে কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে অতিরিক্ত টেনশন ক্ষতিকর। টেনশনমুক্ত থাকার কয়েকটি টিপস :
১. খুব টেনশন হলে বুকের ভেতরে গভীর শ্বাস টেনে নিন। রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ঢুকলে মস্তিষ্ক উজ্জীবিত হয়, মাংসপেশি শিথিল হয় এবং মন ঠাণ্ডা হয়।
২. গভীর শ্বাস টেনে নেয়ার পাশাপাশি মেডিটেশন করুন। মস্তিষ্কে প্রায় ঘুমের সমপর্যায়ের অবস্খা তৈরি হবে। শূন্যে মনোনিবেশ করলে চাপ কমে যায়।
৩. মনছবি গড়ে তুলুন। মনের ছবিটাকে আরো বেশি বাস্তব করার জন্য প্রকৃতির সুরারোপ করুন বা নিজের চারপাশে এই সুর বাজতে দিন।
৪. মনছবির ভেতর নিজের শুভ চাওয়ার প্রতিফলন ঘটান।
৫. আত্মসম্মোহনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি, বদ অভ্যাস ত্যাগ, কম ব্যথা বা দু:খ অনুভবের শক্তি বাড়ান।
৬. হালকা শরীর চর্চা করুন। রক্ত সঞ্চালনের ফলে হতাশার লেভেল কমে যাবে।
৭. মাংসপেশি শিথিলের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমে মুখ, তারপর ঘাড়, কাঁধ এভাবে মাথা থেকে পা পর্যন্ত।
৮. গান শুনুন। বিভিন্ন গানের সুরের প্রভাব বিভিন্ন রকম হয়। কোন্ ধরনের সুর আপনার সবচেয়ে বেশি টেনশন কমাতে সাহায্য করছে সেটা খুঁজে নিন।
৯. যোগ ব্যায়াম করুন। যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই টেনশন দূর করার ক্ষেত্রে। ইন্টারনেট।

নারী


নওরীন সুলতানা

যদি তুমি তাকে ছুঁতে চাও, তবে তুমি ভদ্রলোক নও
যদি তা না কর, তবে তুমি পুরুষ নও।
যদি তুমি তার প্রশংসা কর, তবে সে ভাববে তুমি মিথ্যে বলছ
যদি তা না কর, তবে তুমি কিছুই পার না।
যদি তুমি তার সব পছন্দ মেনে নাও, তবে তুমি উইম্প
যদি তা না কর, তবে তুমি অবুঝ।
যদি তুমি নিয়মিত দেখা কর, তবে তুমি বিরক্তিকর
যদি তা না কর, তবে সে ভাববে তুমি তাকে উপেক্ষা করছ।
যদি তুমি পোশাকে পরিপটি হও, সে বলবে তুমি একজন প্লেবয়
যদি তা না কর, তবে তুমি তার কাছে নীরস।
যদি তোমার হিংসা থাকে, তবে সে বলবে তা খারাপ
যদি তা না থাকে, সে ভাববে তুমি তাকে ভালবাসনা।
যদি তুমি রোমান্স দেখাতে যাও, সে ভাববে তুমি তাকে শ্রদ্ধা কর না
যদি তা না কর, তার কাছে এর অর্থ তুমি তাকে পছন্দ কর না।
যদি তুমি আসতে এক মিনিট দেরি কর, তবে অভিযোগ করবে অপেক্ষা করিয়েছ
যদি সে দেরি করে, তবে বলবে এটাই মেয়েদের নিয়ম।
যদি তমি অন্য ছেলেদের নিয়ে সময় কাটাও, তবে তুমি সময় কাটাতে জান না
যদি সে অন্য মেয়েদের সাথে সময় কাটায়, সে বলবে ‘এটাই স্বাভাবিক আমরা সবাই মেয়ে’।
যদি তুমি একবার তার হাত ধর, তবে সে ভাববে তুমি ঠান্ডা প্রকৃতির
যদি তুমি প্রায়শই তার হাত ধর, তার মানে তুমি বেশি কিছু চাইছ।
যদি তুমি তাকে রাস্তা পার হতে সাহায্য না কর, তাহলে তোমার নীতি নেই
যদি কর, তবে সে ভাববে এটা তোমার মেয়েদের প্রলোভিত করার কৌশল।
যদি তুমি অন্য নারীর প্রতি এক দৃষ্টিতে তাকাও, তবে তোমার চরিত্র খারাপ
যদি সে অন্য পুরুষের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকায়, তবে সে শ্রদ্ধাভরে তাকিয়ে ছিল।
যদি তুমি কথা বলতে থাক, তবে সে চাইবে তুমি কথা শোন
যদি তুমি শুনতে থাক, তবে সে চাইবে তুমি বল।

সংক্ষেপে নারী হল-
সাধারণ হলেও, অতি জটিল
র্দুবল হলেও, অতি শক্তিশালী
দ্বিধাগ্রস্ত হলেও, অতি আকাঙ্ক্ষিত
এলোমেলো হলেও, অতি চমৎকার……
….নারী

প্রিয় পাঠক, কবিতাটি আমার খুবই ভাল লেগেছে এবং এটি কিছুটা বাস্তবসম্যত,তাই আপনাদের জন্য Publish করলাম । আপনাদের ভাল বা খারাপ লাগলে মন্তব্য দিবেন

সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

সুন্দর করে কথা বলা..


-         শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা। (যতটা সম্ভব)

- সুন্দর শব্দ চয়ন।

- জবধফ জবধফ ধহফ জবধফ মানে পড়াশোনা। মনে রাখবেন পড়ার কোনো বিকল্প নেই। যতই পড়বেন আপনি ততই শক্তিশালী হবেন।

সিমকালীন বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা।

ইিতিবাচক মনোভাব।

- মিথ্যা না বলা।

- অযথা সমালোচনা করবেন না। অর্থাৎ অন্যের সমালোচনা না করা। (সংস্কারের উদ্দেশ্য ব্যতীত)

- যখন-তখন যেখানে-সেখানে অশ্লীল কথা বা জোকস্ বলা থেকে বিরত থাকা।

- কথা বলার সময় যেন মুখ থেকে থুথু না ছিটকায় তা খেয়াল রাখা।

- অযথা বিতর্ক না করা।

- মানুষকে অকারণে অযাচিত উপদেশ না দেওয়া।

- ঠেক দিয়ে বিদ্রূপ করে কথা বলবেন না।

- শুধুই একাই বকে যাবেন না। অন্যদেরও সুযোগ দিন। কথা বলুন ছোট ছোট বাক্যে।

- চেঁচিয়ে কথা বলবেন না।

- পরনিন্দা করা থেকে বিরত থাকুন। এসবকিছুই ব্যাড ম্যানার্স। * রকমারি প্রতিবেদক

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ম্যাক ঠিকানাও পরিবর্তন করা যায়


লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) কার্ডের ঠিকানাকে (ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস) বলা হলো ম্যাক অ্যাড্রেস। সাধারণত কম্পিউটারের সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ দিলেই একটি আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা ওই কম্পিউটারের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। যতবার কম্পিউটারের সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়া হয়, ততবারই একটি করে আইপি ঠিকানা ওই কম্পিউটারের জন্য নির্দিষ্ট হয়। অর্থাৎ আইপি ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট হয় এবং প্রায়ই দেখা যায় ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে ম্যাক ঠিকানা সাধারণত একই থাকে। অর্থাৎ একটি ল্যান কার্ডের একটি স্থায়ী ম্যাক ঠিকানা থাকে। তবে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেমন আইপি অ্যাড্রেস পরিবর্তন করা যায়, তেমনি ম্যাক ঠিকানাও পরিবর্তন করা যায়। হ্যাকাররা সাধারণত হ্যাকিং করার আগে কম্পিউটারের আইপি এবং ম্যাক ঠিকানা—দুটিই পরিবর্তন করে ফেলে। তাহলে আর খুব সহজে হ্যাকারদের ধরা যায় না। ম্যাক ঠিকানা পরিবর্তন করার তেমনই একটি সফটওয়্যার হলো টিম্যাক। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব সহজেই ম্যাক অ্যাড্রেস পরিবর্তন করা যায়। তিন মেগাবাইটের মতো এই সফটওয়্যার বিনা মূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন http://download.cnet.com/Technitium-MAC-Address-Changer/3000-2085_4-10554920.html ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে। সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করার পর খুললেই সবার ওপরে দেখতে পাবেন আপনার কম্পিউটারের বর্তমান ম্যাক অ্যাড্রেস এবং তার পাশে লেখা আছে Changed-এর নিচে No। অর্থাৎ ম্যাক ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়নি। এখন সবার নিচে Change MAC-এ ক্লিক করুন। তারপর Random MAC Address-এ ক্লিক করে Change Now-এ ক্লিক করুন। কোনো বার্তা এলে Yes-এ ক্লিক করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন। রিস্টার্ট দিতে বললে রিস্টার্ট করুন। এখন সবার ওপর দেখতে পাবেন আপনার কম্পিউটারের নতুন ম্যাক ঠিকানা এবং তার পাশে লেখা আছে Changed-এর নিচে Yes। ম্যাক ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে। আবার আগের ম্যাক ঠিকানায় ফিরে যেতে চাইলে একইভাবে সবার নিচে Change MAC-এ ক্লিক করুন। তারপর Orginal MAC-এ ক্লিক করুন। কোনো বার্তা এলে Yes-এ ক্লিক করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন। রিস্টার্ট দিতে বললে রিস্টার্ট দিন। দেখবেন আবার আপনার আগের ম্যাক অ্যাড্রেস ফিরে এসেছে এবং তার পাশে লেখা আছে Changed-এর নিচে No। অর্থাৎ ম্যাক (MAC) অ্যাড্রেস পরিবর্তন করা হয়নি। —মো. আমিনুর রহমান

সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

পুরুষের চোখে নারী : প্রেরনার চিরন্তন উৎস


জীবনানন্দের বনলতা সেনের মতো নারী ভাবনায় একটা বড় জায়গা দখল করে আছে কল্পনা। নারীর রূপকল্পনায় থাকে রহস্যে ভরা একটা ইনট্টিনসিক ক্যারেক্টার, এখানেই নারীসত্তার মাদকতা। নারী বললেই বিভূতি ভুষণের লেখায় প্রকৃতির বর্ণনা মনে পড়ে যায়। সজল, শ্যামল, স্নিগ্ধ রূপের সঙ্গে নারীদের এক অদ্ভুত অনুষঙ্গ অনুভূত হয়। নারী আর প্রকৃতি যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, ঠিক যেন জল রংয়ের ক্যানভাস অথবা রংধুনর কোনো রং।

নারী বলতে মা-বোন, স্ত্রী সব ভাবনা একসঙ্গে হুড়মুড় করে মনে আসে। তার কারণ মনে হয় একটাই। নারী মানেই একটা নিশ্চিন্ত আশ্রয়। যে আশ্রয়ে থাকা যায় চিন্তামুক্ত হয়ে। সে ছোটবেলা থেকেই ধরুন না। জন্মের পরই পরম নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠা মাকে আশ্রয় করেই। ভালো-মন্দ, রাগ-দুঃখ, উচ্ছ্বাস, হতাশা সবকিছুই মাকে ঘিরে। পরিবারে ভাই-বোনেরা একসঙ্গে মিলেমিশে বড় হওয়ার সময় বড় বোনের উপর এক ধরনের নির্ভরতা গড়ে ওঠে। বড় ভাইয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু ঠিক তেমনটি হয় না। আর স্ত্রী তো একজন মানুষের জীবনের একটা বড় অংশ দখল করে থাকে। মেয়েদের এই কেয়ারিং অ্যাটিটিউডটা সবার কাছে ভালো লাগে। তাদের যত্ন-মমতা, আগলে রাখা ব্যাপারটা খুব সুন্দর। মেয়েদের এ পরিচালন ক্ষমতা দেখে সবার কাছে মনে হয়_ 'উইমেন আর ভেরি পাওয়ারফুল'। মেয়েদের কোনো খারাপ গুণ আছে এটা ভাবা উচিত নয়। তার মানে এই নয় যে, তাদের মধ্যে খারাপ কোনো শক্তি নেই। মেয়েদের মধ্যেও ভালো মন্দ রয়েছে। আসলে আমরা কি দেখছি, কেমন ভাবে ভাবছি তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করে নারী ভাবনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের গুণগুলোই চোখে পড়ে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেয়েদের সম্ভ্রম বোধ কিছুটা মনে হয় কমে গেছে। তাদের সবটাই খারাপ এ কথাও ঠিক নয়। তারা যথেষ্ট সাবলীল, সপ্রতিভ, নিজের মতো স্পষ্ট ভাষায় জানাতে পারে। কিন্তু লজ্জাবোধ, মেয়েদের যেটা একান্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সেটার একটু কমতি সবখানেই অনুভূত হচ্ছে। বাইরের চেহারা ছাপিয়ে তাদের মনটাকে ছুঁতে ইচ্ছা করে সবসময়। রবীন্দ্রনাথের গান মনে পড়ে_ রূপে তোমায় ভোলাব না। একজন পুরুষের কাছে নারীর আকর্ষণ চিরন্তন। এটি একান্ত স্বাভাবিক। তারা পুরুষের প্রেরণার উৎস। ছোটবেলায় মেয়েদের পরীর মতো ভাবতাম। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ দেখছি তাদেরও লোভ আছে, রাগ আছে, অ্যাগ্রেশন আছে, তারাও চায় ডমিনেট করতে। সর্বক্ষণ একটা মুখোশ পরে থাকা, যা নয় তাই প্রজেক্ট করা, এমন ধরনের মেয়ে কারো কাছেই ভালো লাগে না। প্রায়ই শোনা যায়, সফল পুরুষের পেছনে একজন নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ঠিক তেমনি কোনো নারীর কারণেও আবার একজন সফল পুরুষের ক্যারিয়ার বা সংসার ধুলায় মিশে যেতে পারে।

প্রিয় নারী সব সময়ই অলৌকিক। বাস্তব রেখায় সীমিত করতে চাইলেই তো সেই ভালোলাগা ভেঙে যাবে। গুড়িয়ে যাবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মমতা।

বুদ্ধি বাড়ানোর উপায়

মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ অবশ্যই উঁচুমানের বৈশিষ্ট্য। সাধারণভাবে যা অপরিবর্তিত থাকে বলেই মনে করা হয়। বুদ্ধিমত্তা এরকম হতেও দেখা যায় না। কেউ একটু বেশি বুদ্ধিদীপ্ত আবার কেউ কিছুটা পিছিয়ে, সাধারণ অভিজ্ঞতা তাই বলে। শরীরের পরিবর্তন নানাভাবে হতে পারে; কিন্তু মস্তিষ্ক যেভাবে বিকশিত হয় সারাজীবন সেই ধাঁচ বজায় থাকে। এ ধারণা বহুদিন ধরেই জানা। জানা গেছে, শরীরের গঠনের পাশাপাশি মানসিক গঠনও পাল্টে দেওয়া যায়। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও এটা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট ধরনের বিজ্ঞানসম্মত ট্রেনিং। আইকিউ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে। প্রায় এক শতক ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করেছেন আইকিউ বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। কোনো ধরনের পড়াশোনা বা মনোযোগ ইত্যাদি বাড়িয়ে এই বংশগত বা জিনগত প্রভাব পাল্টে ফেলা যাবে না বলে মনে করা হয়। কিন্তু এখন এ বংশগত বৈশিষ্ট্যও বদলে ফেলা সম্ভব। ইউনিভার্সিটি অব মিসিগানের বিজ্ঞানী সুসান জেগি আর তার সঙ্গীরা তিন বছর আগে বুদ্ধিমত্তার রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করেন। সুসান আর অপর বিজ্ঞানী মার্টিন বাস্ককোহেল ইউনিভার্সিটি অব বার্ন (সুইজারল্যান্ড) থেকে তাদের ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন। তারা এই দুই ইউনিভার্সিটিতেই তাদের কাজ চালিয়ে গেছেন এবং এমন কিছু 'মেন্টাল এক্সারসাইজ' বা মানসিক ব্যায়াম ঠিক করছেন, যা আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা বাড়াবে। প্রয়োগের পর দেখা গেছে আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা আগের চেয়ে বেড়েছে। যেন শারীরিক কসরত করার মতোই মস্তিষ্ক ব্যায়ামে বুদ্ধি বেড়ে উঠতে থাকে। সুসান বলেছেন, এটা শারীরিক ব্যায়ামের মতোই। নির্দিষ্ট কিছু গেম বা খেলায় দক্ষতা বাড়তে দেখা গেছে অথচ বংশগত আইকিউ বা জন্মগত আইকিউ ধারণা প্রায় চার দশকের পুরনো। ১৯৬০ সালে বিতর্কিত আর্থার জেনসন বলেছিলেন, জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ফ্যাক্টর বা জি-এর কথা যা বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আইকিউ আর জাতিগোষ্ঠী নিয়ে ধারণা কেউ মেনে নেয়নি। এর যথেষ্ট সমালোচনা হয়। এখন জেনসন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার আছে (বার্কলে)। কিন্তু জিনগত বুদ্ধিমত্তার ধারণা স্থায়ীভাবে তৈরি হয়ে গেল। ১৯৭০ সালে হার্ভার্ডের মনস্তত্ত্ববিদ রেমন্ড ক্যাটেল বলেছিলেন, দু'ধরনের আইকিউর কথা ক্রিস্টালাইন এবং প্লাস্টিক। প্রথম ধরনের বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটে যখন জানা তথ্য বা পুরনো অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা হয় (ক্রিস্টালাইন) ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্স হলো নতুন সমস্যার সমাধানে বুদ্ধির প্রয়োগ। ক্রিস্টালাইন ইন্টেলিজেন্স, স্মৃতিশক্তি আর অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ। কিন্তু ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্স এসবের ওপর নির্ভর করে না। দুটি আলাদা ধরনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বলে জানা ছিল। ক্রিস্টালাইন ইন্টেলিজেন্স এভাবে বদলায় না। ক্রিস্টালাইন বলতে কোনো কিছু যা জানা পথ ধরে চলে আর ফ্লুইড বলতে পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলায় এমন কিছু বোঝায়। ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্স ট্রেনিং করিয়ে বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষা দেখিয়েছে আইকিউ বংশগতির নির্ভুল মনে হলে বয়স এবং সামাজিক স্তরের ওপর তা নির্ভর করে থাকে। ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্স জানতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন আকার দেখে চেনা বা তিল খোঁজা ম্যাট্রিক্সের সমাধান করা আর শ্রেণীবিভাগ। বিজ্ঞানীরা তাদের এই ধারণার কথা জানিয়েছেন প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্স প্রকাশিত পেপারে। মেন্টাল এক্সারসাইজ যত বেশি করানো যাবে ততই ফ্লুইড বুদ্ধিমত্তা বাড়বে। আইকিউ অথবা মেমরি বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অনেক এক্সারসাইজ বা মস্তিষ্কচর্চার উপায় প্রচলিত আছে। মেমরি বাড়ানো যায় বলে সুসান জেগির বলেছেন, এক হাজার আইটেম বা পৃথক জিনিস মনে রাখা মোটেই সম্ভব নয়। আবার অন্য উপায় আছে যার সাহায্যে স্মরণশক্তি নয়, মস্তিষ্কের অন্য ধারাগুলো উন্নত হতে পারে। বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ বয়সের সঙ্গে নতুন কিউ জন্মগতভাবেই নির্ধারিত হয় এমন বলা যায় না। আইকিউ আরও উন্নত অবস্থায় যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট ধরনের মেন্টাল ট্রেনিং।